স্পেনের কাছে অতিরিক্ত সময়ের লড়াইয়ে ১-০ গোলে বিশ্বমঞ্চের শিরোপা হারানোর পর মেটলাইফ স্টেডিয়ামের ঘাসে বসে লিওনেল মেসির সেই অঝোর ধারায় কান্না, পুরো আর্জেন্টিনার হৃদয়কে দুমড়ে-মুচড়ে দিয়েছে। তবে, হারের এই তীব্র যন্ত্রণার চেয়েও এখন ফুটবল বিশ্বকে বেশি তাড়া করে ফিরছে মেসির এক হিমশীতল নীরবতা! ম্যাচ শেষে কোনো কথা না বলে সোজা মাঠ ও ড্রেসিংরুম ত্যাগ করা মেসির এই মৌনতা পুরো আলবিসেলেস্তে সমর্থকদের মনে জন্ম দিয়েছে এক গভীর আতঙ্কের, তবে কি ফুটবলের সর্বকালের সেরা জাদুকর নিঃশব্দেই জানিয়ে দিলেন তাঁর বিদায়ের কথা?

বিশ্বকাপের ফাইনাল শেষে নিয়ম অনুযায়ী মিক্সড জোনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হওয়ার কথা থাকলেও আর্জেন্টিনা দল গণমাধ্যমের ক্যামেরাকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে বেরিয়ে যায়। দলের একদম সামনে ছিলেন ৩৯ বছর বয়সী অধিনায়ক লিওনেল মেসি, আর তাঁর পাশে ছিলেন রদ্রিগো ডি পলসহ সেই বিশ্বজয়ী দলটির বিশ্বস্ত সতীর্থরা। ট্রফি হাতছাড়া হওয়ার পর কান্নায় ভেঙে পড়া মেসির এই নীরবতা অবসর গ্রহণের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না হলেও, তাঁর এই মানসিক অবস্থা এবং বয়সের সংখ্যাটা বিবেচনা করে সমর্থকেরা এখন সবচেয়ে খারাপ খবরের জন্যই প্রহর গুনছেন।

২০১৬ সালের কোপা আমেরিকার ফাইনালে হারের পর একবার ক্ষোভে-কষ্টে অবসর ঘোষণা করেছিলেন মেসি, যদিও পরে আবার ফিরে এসে দেশকে এনে দিয়েছিলেন কোপা ও ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপ। কিন্তু এবার পরিস্থিতি ভিন্ন; ৩৯ বছর বয়সে এসে বিশ্বমঞ্চের এই চরম ট্র্যাজেডির পর তাঁর এই চুপ থাকাটা যেন এক গভীর ও অশুভ বিদায়ের সুর বাজাচ্ছে!

মেসি না হয় একদিন আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানাবেন, এটাই প্রকৃতির নিয়ম। কিন্তু সেই বিদায়টি কি এভাবেই অশ্রুসজল চোখে এবং কথা না বলে শেষ হবে? কাতার বিশ্বকাপের সেই সোনালী অধ্যায় আর অজস্র রেকর্ডের পর ফুটবল ইতিহাসে নিজের অবস্থানকে তিনি এমন এক উচ্চতায় নিয়ে গেছেন, যেখানে কোনো বিতর্ক বা সংশয় আর অবশিষ্ট নেই। আর্জেন্টিনা হয়তো ভবিষ্যতে আরও অনেক বিশ্বমানের তারকা ফুটবলার তৈরি করবে, কিন্তু মেসির সেই অনবদ্য ফুটবল জাদুকরী আর সমর্থকদের সাথে গড়ে ওঠা অলৌকিক আবেগঘন আত্মিক সম্পর্ক কি আর কখনো কেউ ফিরিয়ে দিতে পারবে?

এখন পুরো আর্জেন্টিনা আর বিশ্বজুড়ে থাকা তাঁর কোটি কোটি ভক্ত কেবল একটাই প্রার্থনা করছেন, মেসির সেই মেটলাইফ স্টেডিয়ামের কান্না যেন কেবল শিরোপা হারানোর যন্ত্রণার প্রকাশ হয়, ফুটবলের সেরা মহাকাব্যের শেষ দৃশ্য না হয়! এখন দেখার বিষয়, নীরবতার এই দেওয়াল ভেঙে মেসি কবে মুখ খোলেন এবং বিশ্ব ফুটবলকে কোন বার্তার মুখোমুখি দাঁড় করান!
তথসূত্র: মারকা
