আফগানিস্তান ৪ উইকেটে ২১১ (রহমত ৮৪*, মালিক ৬২, এবাদত ২-৫০) ১৩৫ রানে পিছিয়ে। বাংলাদেশ ৩৪৬ (তানজিদ ৮৩, শাদমান ৬৭, সেলিম ৪-৮২, আহমদজাই ৩-৭৯)।
আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত একমাত্র টেস্টের দ্বিতীয় দিন শেষে বাংলাদেশ বনাম আফগানিস্তানের মধ্যকার লড়াইয়ে জমজমাট উত্তেজনার পারদ চড়ছে! বাংলাদেশ দলকে ৩৪৬ রানে অলআউট করার পর ব্যাট করতে নেমে অধিনায়ক রহমত শাহর লড়াকু ৮৪ রান এবং সহ-অধিনায়ক ইকরাম আলিখিলের দায়িত্বশীল ব্যাটে ভর করে শক্ত অবস্থানে পৌঁছাল আফগানিস্তান।
শনিবার টেস্টে দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে ভাঙন এড়ে পঞ্চম উইকেটে ৭২ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে বাংলাদেশকে চিন্তায় ফেলে দিয়েছেন এই দুই আফগান ব্যাটার।
আবুধাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে দিনের শুরুতে মাত্র ২৯ রান যোগ করতেই বাংলাদেশের শেষ দুই উইকেট তুলে নেন আফগান পেসাররা। চার উইকেট শিকারি মোহাম্মদ সালিম ও তিন উইকেট নেওয়া ইয়ামিন আহমাদজাইয়ের তোপে ৩৪৬ রানেই থেমে যায় টাইগারদের প্রথম ইনিংস।

উত্তরসূরিদের চমৎকার বোলিংয়ের পর জবাব দিতে নেমে শুরুতেই হাসান মাহমুদের বল প্রথম স্লিপে তালুবন্দি করিয়ে ওপেনার সিদিকউল্লাহ অটলকে ফিরিয়ে শুভ সূচনা করেছিল বাংলাদেশ।
তবে মধ্যাহ্নভোজের বিরতির পর দ্বিতীয় সেশনে পালটা আক্রমণ শুরু করেন আব্দুল মালিক ও শাহিদুল্লাহ। অবশেষে বোলিংয়ে এসে শর্ট বলে শাহিদুল্লাহকে (২০) ফাইন লেগে হাসান মাহমুদের চোখধাঁধানো ক্যাচে পরিণত করেন দিনজুড়ে ক্ষুরধার বোলিং করা ইবাদত হোসেন।
তবে ক্রিজে এসে প্রথম ওভারেই কভার ড্রাইভে চার ও পরে তাইজুলকে সোজা ছয় মেরে নিজের ক্ষুরধার ফর্মের জানান দেন অধিনায়ক রহমত শাহ। অন্যপ্রান্তে সাবধানী ব্যাটিংয়ে অভিষেক টেস্ট ফিফটি তুলে নেন ওপেনার আব্দুল মালিক (৬২)।
চা-বিরতির ঠিক পরপরই ম্যাচে দুর্দান্তভাবে ফিরেছিল বাংলাদেশ! ইবাদত হোসেনের বিষাক্ত সুইঙে আব্দুল মালিকের ব্যাটের কোণায় লেগে বল চলে যায় ডানদিকে। সেখানে ঝাঁপিয়ে পড়ে অবিশ্বাস্য এক ক্যাচ নিয়ে বাংলাদেশকে ব্রেকথ্রু এনে দেন উইকেটরক্ষক লিটন দাস। এর ঠিক পরের ওভারেই স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজের ঘূর্ণি বলে বিভ্রান্ত সাবেক অধিনায়ক হাসমতউল্লাহ শাহিদীকে দুর্দান্ত চকিত স্টাম্পিংয়ের শিকার বানান সেই লিটন! শূন্য রানেই প্যাভিলিয়নে ফেরেন শাহিদী।
পরপর দুই বলে দুই উইকেট হারিয়ে ৪ উইকেটে ১৩০ রানে পরিণত হওয়া আফগানিস্তানকে সেখান থেকে একাই টেনে তোলেন অধিনায়ক রহমত শাহ। টাইগার বোলারদের সব ধরণের আক্রমণকে একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণে রেখে ১৮৬ বলে ৮টি চার ও ১টি ছক্কায় ৮৪ রানে অপরাজিত থাকেন রহমত। তাকে দারুণ সঙ্গ দেন উইকেটরক্ষক ইকরাম আলিখিল (৯১ বলে ২৬*)।
টানা ১৭ ওভার বাউন্ডারি না দিলেও শেষভাগে মিরাজকে পরপর দুটি কভার ড্রাইভ মেরে আফগানদের দলীয় স্কোর ২০০ পার করান তারা। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের ইবাদত হোসেনের আগুনে বোলিং ও স্পিন আক্রমণের সামনেও দাঁতে দাঁত চেপে লড়ে দিন শেষে চাপমুক্ত মুখে মাঠ ছাড়ে আফগানিস্তান।
