মহালয়ার পুণ্য প্রভাতে দেড়শ শিল্পীর সম্মিলিত কণ্ঠে আগমনী গান এবং দেবী দুর্গা ও মহিষাসুরের পৌরাণিক কাহিনিনির্ভর নাট্য পরিবেশনায় উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে নেত্রকোণার সাতপাই কালীবাড়ী প্রাঙ্গণ। সংগীত ও নাট্যচিত্রের মধ্য দিয়ে মঞ্চে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে দেবী দুর্গার আবির্ভাব এবং অশুভ শক্তির বিনাশের অনন্য আখ্যান।
শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল ছয়টা থেকে ৯টা পর্যন্ত সাতপাই কালীবাড়ী প্রাঙ্গণে এ বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সাতপাই কালীবাড়ী পরিচালনা কমিটির উদ্যোগে আনন্দধাম সাংস্কৃতিক চর্চা কেন্দ্রের পরিবেশনায় অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে দেড়শ শিল্পীর সম্মিলিত কণ্ঠে পরিবেশিত হয় মহালয়ার আগমনী গান। সুর, সংগীত ও বর্ণাঢ্য পরিবেশনায় ফুটিয়ে তোলা হয় দেবী দুর্গার মর্ত্যে আগমনের বার্তা। পাশাপাশি দেবী দুর্গা ও মহিষাসুরের পৌরাণিক কাহিনিনির্ভর নাট্যচিত্রে ফুটে ওঠে অশুভ শক্তির বিনাশ এবং শুভ শক্তির বিজয়ের দৃশ্য।
শিল্পীদের প্রাণবন্ত এই পরিবেশনা উপভোগ করতে সকাল থেকেই কালীবাড়ী প্রাঙ্গণে ভিড় জমান বিপুলসংখ্যক দর্শক-শ্রোতা। পুরো আয়োজনজুড়ে এক গভীর ধর্মীয় আবেগ ও শারদীয় দুর্গোৎসবের আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
নেত্রকোণা জেলা পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক লিটন পণ্ডিত জানান, মহালয়াকে কেন্দ্র করে এ ধরনের সাংস্কৃতিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে নতুন প্রজন্মের কাছে আগমনী সংগীত, পৌরাণিক কাহিনি ও ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক চর্চা তুলে ধরাই তাদের অন্যতম মূল উদ্দেশ্য।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস অনুযায়ী, মহালয়ার পবিত্র এই দিনটির মধ্য দিয়েই দেবী দুর্গার আগমনী বার্তা ধ্বনিত হয় এবং শুরু হয় শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রাণবন্ত আবহ।
