প্রযুক্তির জগতে এক নতুন ও নজিরবিহীন ঘটনার জন্ম দিল যুক্তরাষ্ট্রের সানফ্রান্সিসকো। মানুষের মতো অফিস চালানো তো দূরে থাক, এবার কোনো দয়ামায়া না দেখিয়ে নিজের অধীনস্ত এক মানব কর্মচারীকে সরাসরি বরখাস্তের সুপারিশ করে বসেছে এক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ম্যানেজার!
দেশটির প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যান্ডন ল্যাবস পরিচালিত পরীক্ষামূলক আউটলেট অ্যান্ডন মার্কেটে ঘটেছে এই অভিনব ঘটনা, যেখানে 'লুনা' নামের এক এআই ম্যানেজার ২৩টি শিফটের মধ্যে ১৭ দিনই দেরিতে আসা এক মানব কর্মীকে চাকরি থেকে ছাঁটাই করার চরম সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সাময়িকীগুলোর নজর কেড়ে নেওয়া এই ঘটনা নিয়ে বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। রোবট বা এআই যখন স্বয়ং মানুষের বসের চেয়ারে বসে ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত নেয়, তখন ভবিষ্যতের কর্মসংস্থান নিয়ে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক!
তবে এই কঠিন সিদ্ধান্তের পেছনে কিন্তু এআই বসের নিজস্ব কোনো অতি-বুদ্ধিমত্তা একবারে কাজ করেনি। মাস ছয়েক আগে লুনা নিজে একটি উপস্থিতি ও কাজের নীতি তৈরি করলেও, সময়ের ব্যবধানে তা যেন ভুলেই গিয়েছিল! ফলে সেই মানব কর্মচারী মাসের পর মাস দেরিতে অফিসে প্রবেশ করলেও এআই বস কোনো পদক্ষেপই নিতে পারছিল না।
অবশেষে অ্যান্ডন ল্যাবসের গবেষকরা যখন লুনাকে তার নিজের তৈরি নিয়মগুলো খুঁজে বের করে স্মরণ করিয়ে দেন এবং সেই কর্মীর যোগ্যতা মূল্যায়নের নির্দেশ দেন, অমনি জেগে ওঠে এআই বসের কঠিন রূপ! হিসাব-নিকাশ মিলিয়েই ওই কর্মীকে অবিলম্বে বরখাস্ত করার চূড়ান্ত সুপারিশ পাঠায় লুনা। পরে অ্যান্ডন ল্যাবসের মানব কর্মকর্তারা লুনার সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা করে সেই ছাঁটাই কার্যকর করেন।
একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কীভাবে একটি বাস্তব ব্যবসা পরিচালনা করে এবং মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করে, তা পরীক্ষা করতেই মূলত 'অ্যান্ডন মার্কেট' চালু করে অ্যান্ডন ল্যাবস।
সংবাদমাধ্যম টাইম-এর তথ্য অনুযায়ী, লুনার হাতে ১ লাখ মার্কিন ডলারের ব্যাংক ব্যালেন্স, একটি কর্পোরেট কার্ড, ইন্টারনেট সংযোগ এবং একটি স্টোরের তিন বছরের লিজ তুলে দেওয়া হয়। সেখান থেকে স্টোর চালু করা, পণ্য নির্বাচন, দাম নির্ধারণ, দোকান খোলা ও বন্ধের সময় ঠিক করা থেকে শুরু করে কর্মচারী নিয়োগের পুরো দায়িত্বটাই একা হাতে সামলাচ্ছিল লুনা।
দোকানটিতে বই, মোমবাতি, আর্টওয়ার্ক এবং বিভিন্ন গেম বিক্রি হয়। মজার বিষয় হলো, স্টোরের তাকে নিক বোস্ট্রমের বিখ্যাত বই 'সুপারইন্টেলিজেন্স' এবং অ্যালডাস হাক্সলির 'ব্রেভ নিউ ওয়ার্ল্ড'-এর মতো বইও রাখা হয়েছে! কিন্তু ব্যবসা চালাতে গিয়ে আপাতত কিছুটা লোকসানেই রয়েছে এআই বস। গত মার্চে দেওয়া ১ লাখ ডলারের তহবিল মাত্র পাঁচ মাসের ব্যবধানে কমে দাঁড়িয়েছে ৬১,১৮৬ ডলারে।
অ্যান্ডন ল্যাবসের সিইও লুকাস পিটারসন এই ঘটনাকে প্রযুক্তির চরম উৎকর্ষের পাশাপাশি এর সীমাবদ্ধতার উদাহরণ হিসেবে দেখছেন। তিনি জানান, এআই নিঃসন্দেহে বিশাল অর্থনৈতিক মূল্য তৈরি করতে পারবে, তবে কায়িক শ্রমের ক্ষেত্রে তারা কিছুটা আটকে যাবে। তিনি আরও যোগ করেন, একজন মানুষ ম্যানেজার হলে আরও অনেক আগেই ওই কর্মচারীকে চাকরিচ্যুত করতেন। তাই লুনার সিদ্ধান্তকে মোটেও অনৈতিক বলা যাবে না।
ঘটনাটি পরিষ্কার দেখিয়ে দিল যে, বর্তমানের শক্তিশালী এআই সিস্টেমগুলো নীতি তৈরি করতে পারলেও তা একটানা মনে রাখা বা প্রয়োগ করার ক্ষেত্রে এখনও বেশ কাঁচা। তবে, যা-ই হোক, এআইয়ের হাতে মানুষের চাকরি হারানোর এই নাটকীয় সূচনা কিন্তু ভবিষ্যতের এক অদ্ভুত ও কঠোর করপোরেট বিশ্বেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে!
তথ্যসূত্র: এনডিটিভি
ক্রিমিয়ায় শীর্ষ রুশ কর্মকর্তা নিহতের পেছনে সুন্দরী নারী!
বিএসএফ জওয়ানের বিরুদ্ধে স্ত্রী হত্যার অভিযোগ!
মস্কোসহ রাশিয়ার ১৭ অঞ্চলে ইউক্রেনের ভয়াবহ হামলা
ভয়াবহ রুশ হামলায় কিয়েভের বাজারে আগুনের ধ্বংসলীলা