নিজের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ, ব্যাংক হিসাব ও আর্থিক অবস্থার বিস্তারিত বিবরণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশ করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) দেওয়া এক পোস্টে তিনি তার বর্তমান আর্থিক অবস্থার তথ্য তুলে ধরেন।
শফিকুল আলম জানান, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে তিনি তার সম্পদের পূর্ণ বিবরণ প্রথমবার প্রকাশ করেছিলেন। সেই তুলনায় বর্তমানে তার সম্পত্তির মালিকানায় কোনো পরিবর্তন হয়নি। তবে ব্যাংক হিসাবে জমা অর্থের পরিমাণ কিছুটা বেড়েছে।
ফেসবুক পোস্টে প্রেস সচিব উল্লেখ করেন, ঢাকার শাহীনবাগে তার একটি ফ্ল্যাট রয়েছে এবং দনিয়ায় বাবার কাছ থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া আরেকটি ফ্ল্যাটের মালিক তিনি। পাশাপাশি শফিকুল আলম ও তার স্ত্রী দুজনেই ময়মনসিংহে একটি করে অ্যাপার্টমেন্টের মালিক। এছাড়া তার নিজ গ্রাম মাগুরায় ৪০ শতাংশ কৃষিজমি রয়েছে বলে জানান তিনি।
রাষ্ট্রায়ত্ত একটি ব্যাংকে শফিকুল আলমের একটিমাত্র হিসাব রয়েছে। তিনি জানান, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে তার হিসেবে জমা ছিলো এক কোটি ১৪ লাখ টাকা। বর্তমানে সেই জমা স্থিতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে এক কোটি ২৩ লাখ টাকা। অর্থাৎ এক বছরে তার ব্যাংক হিসাবে ৯ লাখ টাকা বেড়েছে।
এই ৯ লাখ টাকা বাড়ার কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি লেখেন, আমার শ্যালক আমার কাছ থেকে নেওয়া সাড়ে সাতে লাখ টাকা ফেরত দিয়েছেন। পাশাপাশি আমার বড়ো ভাই রোজায় দরিদ্র গ্রামবাসীদের মধ্যে বিতরণের জন্য আড়াই হাজার ডলার পাঠিয়েছেন।
শফিকুল আলম আরও জানান, তার অর্থের বড় একটি অংশ আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপি থেকে পাওয়া গ্র্যাচুইটি। ২০০৫ সাল থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত তিনি এএফপিতে কর্মরত ছিলেন।
২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব হিসেবে নিয়োগ পাওয়া শফিকুল আলম তার দায়িত্বের শেষ পর্যায়ে এসে লিখেছেন, আজ হয়তো আমার শেষ কর্মদিবস। আমার আর্থিক লেনদেন ও অবস্থার যেকোনো ধরনের যাচাই-বাছাই আমি স্বাগত জানাই। রসিকতা করে তিনি আরও যোগ করেন, ‘হ্যাঁ, আমার নকল বারবেরি মাফলারটি এখনও আমার কাছেই আছে।’
বার্তাসংস্থা এএফপির ব্যুরো চিফ থেকে আসা শফিকুল আলমকে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে জ্যেষ্ঠ সচিবের পদমর্যাদা দেওয়া হয়েছিল। প্রধান উপদেষ্টার মেয়াদকাল বা তার সন্তুষ্টি সাপেক্ষে তিনি এই চুক্তিভিত্তিক দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন।
