মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ঘাটের কাছে এসে ডুবে যাওয়া ফেরি আমানত শাহ ১২ দিন পর উদ্ধার করে সোজা করা হলেও এখনই ভাসানো সম্ভব হচ্ছে না।
ফেরির ভেতর থেকে পানি, কাদা-মাটি অপসারণ করার পাশাপাশি, ফেরির তলদেশের ফাটল মেরামত করে পানির ওপর ভাসাতে আরো এক দিন সময় লাগবে।
উদ্ধার অভিযানের প্রধান বিআইডব্লিউটিএ'র যুগ্মপরিচালক ফজলুর রহমান জানান, ফেরিতে ২৫টি ছিদ্র পাওয়া গেছে। সেগুলো মেরামত করা হয়েছে।
আর কোনো ছিদ্র আছে কিনা তার অনুসন্ধান চলছে। আশা করা হচ্ছে উদ্ধার হওয়া ফেরি মঙ্গলবার দুপুর থেকে ভাসানো যাবে এবং একটি নিরাপদ জায়গায় রাখা হবে।
সোমবার সকালে জেনুইন এন্টারপ্রাইজের ডুবুরিরা সবার প্রথমে ফেরির দুই পাশে হুক লাগিয়ে দেন। পরে সকাল ১০টা থেকে পাঁচটি উইন্সবার্জ দিয়ে ফেরিটিকে টেনে তোলা হয়।
পরে কাত হয়ে যাওয়া ফেরিটি সোজ করার পর দেখা যায় নিচের অংশে বড় বড় ছিদ্র। এরপরই সিদ্ধান্ত হয় ছিদ্রগুলো মেরামত করে ফেরিটিকে নদীতে ভাসাতে আরো একদিন সময় লাগবে।
আরও পড়ুন: করোনা: শনাক্ত আবারো দু'শোর উপরে, বাড়লো মৃত্যুর সংখ্যাও
গত ৪ নভেম্বর সকাল থেকে জেনুইন কোম্পানির ডুবুরি দল ফেরির তলদেশ থেকে উদ্ধারের সার্ভে কাজ শুরু করে। পর্যায়ক্রমে চট্টগ্রাম আনা হয় ছয়টি উইন্সবার্জ।
বিআইজব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ফেরিটি সোজা করার পর বিভিন্ন ধরনের মেরামতের কাজ প্রায় ৯৫ ভাগ শেষ হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যান মধ্যে বাকি কাজও শেষ হয়ে যাবে।
ফেরিকে ভাসানোর পর একটি নিরাপদ স্থানে নেওয়া হবে। যাতে করে ঘাট আবারো চালু করা যায়। এতে সর্বোচ্চ দুই দিন লাগতে পারে বলে জানিয়েছে, বিআইডব্লিউটিএ।
এর আগে চারদিন ধরে ফেরির ভেতরে জমে থাকা পলিমাটি সরিয়ে ফেরিটিকে হালকা করে ডুবুরিরা। পরে ফেরির চারপাশে পড়িয়ে দেয়া হয় মোটা লোহার তার।
গত ২৭ অক্টোবর ১৮টি গাড়ী নিয়ে পাটুরিয়া পাঁচ নম্বর ঘাটে ডুবে যায় রো রো ফেরি আমানত শাহ। এর চার দিন পর উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা ও রুস্তম সবগুলো ট্রাক ও মোটরসাইকেল উদ্ধারে সক্ষম হয়। এরপর শুরু হয় ফেরি উদ্ধার কাজ।
একাত্তর/আরএইচ
