ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইলমা চৌধুরী মেঘলার অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় হত্যা মামলা করেছেন তার বাবা সাইফুল ইসলাম চৌধুরী।
বনানী থানায় দায়ের করা মামলায় মেঘলার স্বামী ইফতেখার আবেদীন ও শ্বশুর-শাশুড়িকে আসামি করা হয়েছে। এদিকে, মেঘলার স্বামীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত।
মঙ্গলবার (১৪ ডিসেম্বর) বিকেলে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে মৃত্যু হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃত্যকলা বিভাগের ছাত্রী ইলমা চৌধুরী মেঘলার।
তার সারা শরীরে ছিলো আঘাতের চিহ্ন। স্বজনরা অভিযোগ বিয়ের পর থেকেই মেঘলার ওপর নির্যাতন চালাত তার স্বামী ইফতেখার।
ঘটনার পর মঙ্গলবারই কানাডা প্রবাসী ইফতেখারকে আটক করে পুলিশ। আর বুধবার ইলমার বাবা সাইফুল ইসলাম চৌধুরী বাদী হয়ে বনানী থানায় হত্যা মামলা করেন।
মামলায় ইলমার স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়িকে আসামি করা হয়। মামলার এজাহারে বলা হয়, গেলো এপ্রিলে ইফতেখারের সাথে মেঘলার বিয়ে হয়।
বিয়ের পর থেকেই মেঘলার পড়াশুনা বন্ধ করতে চাপ দেয় ইফতেখারের পরিবার। নির্যাতন করে তার মাথার চুল কেটে দেয়া হয়। তাকে কারও সাথে যোগাযোগ করতেও দেওয়া হতো না।
মেঘলার মৃত্যুকে হত্যাকাণ্ড দাবি করেছেন তার সহপাঠীরা। তাদের দাবি মেঘলাকে হত্যা করা হয়েছে। বুধবার সকালে বুধবার অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে আয়োজিত এক মানববন্ধন ও বিক্ষোভে এই ঘটনার বিচার দাবি করেন তারা।

তারা বলেন, মেঘলা খুবই বন্ধু সুলভ ছিল। রক্ষণশীল এক প্রবাসী ব্যক্তির সঙ্গে ফেসবুকে পরিচিত হয়ে ঘরোয়াভাবে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর আমরা দেখতে পাই সে তার স্বাভাবিক জীবন থেকে দূরে সরে যায়। আমাদের সঙ্গে মিশতে তার স্বামী বাঁধা দিতো। সে ঘর থেকে বের হতে পারতো না। বের হলেও তার সঙ্গে একজন গার্ড দিয়ে রাখতো এবং সে কোথায় কী করছে সব কিছু তার স্বামী ভিডিও কলের মাধ্যমে সবকিছু তদারকি করতো।
মানববন্ধনে নৃত্যকলা বিভাগের চেয়ারপারসন রেজওয়ানা চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের শিক্ষার্থী মেঘলার স্বাভাবিক মৃত্যু হয়নি। যদি এটা স্বাভাবিক হয়, তাহলে তার শরীরে কেন আঘাতের চিহ্ন থাকবে। হাসপাতালে গিয়ে আমি যে দৃশ্য দেখেছি তা বিশ্বাস করতে পারছি না। তার স্বামীকে দেখে অস্বাভাবিক মনে হয়েছে এবং তার কথাবার্তা খুব অসংলগ্ন ছিল।’
আরও পড়ুন: সেই ঢাবি শিক্ষার্থীর ময়নাতদন্ত সম্পন্ন
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর একেএম গোলাম রাব্বানী বলেছেন, ‘এটি একটি হত্যাকাণ্ড। মেঘলার শরীরে আঘাতের চিহ্ন, তাকে মানসিকভাবেও নির্যাতন করা হয়েছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু ও দ্রুত তদন্তের দাবি জানাচ্ছি। ঢাবি প্রশাসন মেঘলার পরিবারের সঙ্গে আছে।’
এদিকে, ময়নাতদন্ত শেষে ইলমার মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে পুলিশ। তার মরদেহ গ্রামের বাড়ি ধামরাইতে দাফন করা হয়েছে।
ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার হাফিজুর রহমান জানান রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্ত করে বের করা হবে।
একাত্তর/এসি/আরএ
