করোনাভাইরাসের ওমিক্রন ধরন আতঙ্ক ছড়াচ্ছে যুক্তরাজ্যে। মহামারি শুরুর পর থেকে এক দিনে সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ দেখেছে দেশটি। বৃহস্পতিবার (১৬ ডিসেম্বর) যুক্তরাজ্যে নতুন করে ৮৮ হাজার ৩৭৬ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে।
এর আগে বুধবার যুক্তরাজ্যে নতুন করে ৭৮ হাজার ৬১০ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছিল। মহামারি শুরুর পর এটাই ছিল সংক্রমণ শনাক্তের সর্বোচ্চ সংখ্যা। গতকাল সংক্রমণ শনাক্তের এই সংখ্যা আগের দিনের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। আগামী কয়েক দিনে এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
চলতি বছরের শুরুতে জানুয়ারিতে যুক্তরাজ্যে এক দিনে ৬৮ হাজার ৫৩ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছিল। কয়েকদিন আগে পর্যন্ত এটিই ছিলো সর্বোচ্চ শনাক্তের সংখ্যা।
এদিকে, করোনার অতি সংক্রামক ধরন ওমিক্রন যুক্তরাজ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে। এখন পর্যন্ত দেশটিতে ১০ হাজারের বেশি মানুষের শরীরে ধরনটির উপস্থিতি মিলেছে। ওমিক্রনে আক্রান্ত হয়ে কমপক্ষে ১০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, মারা গেছেন ১ জন।
আরও পড়ুন: হাসপাতালে মাহাথির মোহাম্মদ
ক'দিন আগেই প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন করোনার নতুন ঢেউ আঘাত হানতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। তবে সংক্রমণ মোকাবিলায় নতুন করে বিধিনিষেধ আরোপের পক্ষে নন শতাধিক আইনপ্রণেতা। মঙ্গলবার এক ভোটাভুটিতে তারা বিধিনিষেধ আরোপের বিপক্ষে অবস্থান নেন।
বৃহস্পতিবার যুক্তরাজ্যের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ক্রিস হোয়াইটি বলেন, ওমিক্রন অত্যন্ত সংক্রামক। এখনও ওমিক্রনে আক্রান্তদের সংখ্যা কিছুটা কম হলেও খুব শিগগির এই সংখ্যা বাড়বে। হাসপাতালগুলো এখনই রোগী সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে।
মহামারি শুরুর পর থেকে ওমিক্রন যুক্তরাজ্যের জন্য 'সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হুমকি' হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির হেলথ সিকিউরিটি এজেন্সির প্রধান নির্বাহী জেনি হ্যারিস। তিনি বলেন, করোনার আগের ধরনগুলোর সঙ্গে তুলনা করলে আগামী ক'দিনে সংক্রমণের হার হতবাক করে দেওয়ার মতো হতে পারে বলে প্রাপ্ত হিসাবনিকাশ ইঙ্গিত দিচ্ছে।
উল্লেখ্য, এখন পর্যন্ত দেশটিতে প্রায় ১ কোটি ১১ লাখ মানুষের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। নতুন ১৪৬ জনসহ দেশটিতে করোনায় মারা গেছেন প্রায় ১ লাখ ৪৭ হাজার মানুষ।
একাত্তর/জো
