পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে আফগানিস্তান 'বিশ্বের সবচেয়ে বড় মানবসৃষ্ট সংকট' হয়ে উঠতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।
রোববার (১৯ ডিসেম্বর) পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের সংসদ ভবনে প্রতিবেশী আফগানিস্তানের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশনের (ওআইসি) পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের কাউন্সিলের ১৭ তম অধিবেশনে এসব কথা বলেন ইমরান।
পাকিস্তানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডন জানিয়েছে, ওআইসি'র এ অধিবেশনে ৫৭টি ইসলামিক দেশের রাষ্ট্রদূত, পর্যবেক্ষক ও প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছেন।
ইমরান বলেন, চল্লিশ বছর আগেও আফগানিস্তানের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য পাকিস্তানে ওআইসির এমনই একটি অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ওই অধিবেশনেও তালেবানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকির সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়া, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও জাতিসংঘের প্রতিনিধিরা ছিলেন।
তিনি আরও বলেন, আফগানিস্তানের মতো অন্য কোনো দেশ এতটা ক্ষতিগ্রস্থ হয়নি। নতুন তালেবান সরকারের আগেও দেশটির জনসংখ্যার অর্ধেক মানুষ দারিদ্র্যসীমার নীচে ছিল। দেশটির বাজেটের ৭৫ শতাংশই আসতো বৈদেশিক সাহায্য থেকে।
আফগানিস্তানের মতো পরিস্থিতিতে পড়লে অন্য যেকোনো দেশ ভেঙে পড়বে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে ওআইসি অধিবেশন।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী আরও যুক্ত করেন, বিশ্বের দেশগুলো যদি হাত না বাড়িয়ে দেয় তাহলে এটিই হবে সবচেয়ে বড় মানবসৃষ্ট সংকট।
এদিকে আগস্টে তালেবান গোষ্ঠী কাবুলের ক্ষমতা দখলে নেওয়ার পর থেকেই প্রায় পুরো বিশ্ব থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় আফগানিস্তান। তালেবান ক্ষমতায় আসায় বিশ্বের অধিকাংশ দেশ ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন দাতা সংস্থা আফগানিস্তানে মানবিক সহায়তাসহ অর্থ সাহায্য পাঠানো বন্ধ করে দেয় দেশটিতে।
এর আগে আফগানিস্তানে জাতিসংঘের বিশেষ দূত ডেবোরা লিয়নস বলেছিলেন, আফগানিস্তানের অর্থনীতি এবং সামাজিক শৃঙ্খলার সম্পূর্ণ ভাঙন আটকাতে দেশটিতে অর্থ আনার জন্য একটি উপায় খুঁজে বের করতে হবে।
আরও পড়ুন: বাগদাদে অল্পের জন্য রক্ষা পেলো মার্কিন দূতাবাস
তিনি আরও বলেছিলেন, আফগানিস্তান একটি ঝড়ের সম্মুখীন। টাকার মূল্য কমে যাওয়া, খাদ্য ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং বেসরকারি ব্যাংকে নগদ টাকার অভাব দেখা দিয়েছে।
আফগানিস্তানের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটের সমাধান না হলে দেশটির জনসংখ্যার প্রায় ৯৭ শতাংশ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে যেতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছিলো জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচী (ইউএনডিপি)।
সংস্থাটি আরও জানায়, আফগানিস্তানের প্রকৃত মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) সংকোচনের ফলে দারিদ্র্যের হার ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে।
একাত্তর/আরবিএস
