টঙ্গীবাড়ীর সাব-রেজিস্ট্রারের অফিসে প্রকাশ্য নানা দুর্নীতির বিষয়ে উপজেলার যশলংয়ের এক ব্যক্তি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ঢাকা কার্যালয়ে অভিযোগ করেন।
এরই পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার (২০ ডিসেম্বর) সকালে মুন্সীগঞ্জ জেলার টঙ্গীবাড়ি উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে আসে দুদক টিম। সেখানে ঘন্টাব্যাপি ভূক্তভোগীদের জবানবন্দি নেন তারা।
অভিযোগে ভূক্তভোগী নূরে আলম মাদবর জানান, তার নামজারীকৃত, খাজনা খারিজ পরিশোধিত জমি সাব-রেজিস্ট্রার দুর্নীতি করে অপর ব্যাক্তির নামে রেজিষ্ট্রি করে দেন। এই কাজে তাকে সহায়তা করেন সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের দলিল লেখক মোঃ আরিফ।
এসময় ঘুষ লেনদেন, দালালদের প্রাধান্য, জমির শ্রেনী পরিবর্তন করে রাজস্ব ফাঁকি, রেজিস্ট্রেশনের নামে অবৈধ বিভিন্ন ফি আদায়ের অভিযোগ ওঠে টঙ্গীবাড়ীর সাব-রেজিস্ট্রার স্বপন দে’র বিরুদ্ধে। অভিযোগে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে গিয়ে হয়রানির শিকার হওয়ার কথা জানান সাধারন মানুষরা।
ভূক্তভোগীদের অভিযোগ জমি সাফকবলা বিক্রিতে খরচ প্রতি লক্ষ টাকায় রেজিস্ট্রেশন ফি ১%, ষ্ট্যাম্প ফি ১.৫%, স্থানীয় সরকার কর ৩%, উৎস কর ১%। হলফনামা ২০০ টাকা, ই ফি ১০০ টাকা, এন ফি প্রতি পাতা ১৬ টাকা, এনএন ফি ২৪ টাকাসহ কোর্ট ফি ১০ টাকা মিলিয়ে দলিল প্রতি ৬৫০ টাকা থেকে ৭৫০ টাকা দলিল লেখকের মজুরি।
আরও পড়ুন: নারায়ণগঞ্জে সিটি নির্বাচনে ছয় প্রার্থী বৈধ ঘোষণা
সব মিলিয়ে ৬.৫% খরচ হলেও দলিল লেখকরা সাব-রেজিস্ট্রারের অফিস খরচের কথা বলে দলিল মূল্যের প্রতি লাখে ১০% থেকে ১১% হারে টাকা আদায় করছে।
টঙ্গীবাড়ী সাব-রেজিস্ট্রার অফিস দালাল চক্রের আস্তানা। ওই অফিসে দালালরা মূলত সাব-রেজিস্ট্রারের ঘুষের টাকা সংগ্রহ করে থাকেন।
সাব-রেজিস্ট্রার স্বপন দে জানান, দুদক তদন্ত কর্মকতারা তদন্ত করছে তারাই বলবে আমি অভিযুক্ত কিনা। এ বিষয়ে আমার নিজস্ব কোন বক্তব্য নাই।
টঙ্গীবাড়ী উপজেলা ক্যাব সভাপতি এডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম জানান, দীর্ঘ দিন যাবত অনিয়ম চলছে, তাও আবার খোদ উপজেলার গুরুত্বপূর্ন দপ্তরে। দোষীদের চিহ্নিত করে দ্রুত ভোক্তা অধিকার কার্যকর করা হোক।
দুদকের ডেপুটি পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম জানান, আমরা তথ্য সংগ্রহ করে পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবো।
একাত্তর/টিএ
