দেশে থেকে পাচার হওয়া অর্থ ফিরে আনা কঠিন কাজ বলে মন্তব্য করেছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আব্দুল মোমেন। তিনি জানান, পাচার অর্থ ফেরাতে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান সম্মিলিতভাবে কাজ করছে। তবে অগ্রগতি সন্তোষজনক নয়।
সোমবার (২৪ নভেম্বর) দুপুরে হবিগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় আয়োজিত গণশুনানি শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
দুদক চেয়ারম্যানের অভিযোগ, নির্বাচনের আগে প্রার্থীরা সম্পদের হিসাব দিতে বাধ্য থাকলেও রাজনৈতিক নেতারা প্রায়ই আংশিক হিসাব জমা দেন এবং বাকি অংশ গোপন রাখেন। শেখ হাসিনা উদাহরণ হিসেবে টেনে তিনি বলেন, ২০০৮ সালের নির্বাচনে পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী সম্পত্তির গোঁজামিল হিসাব দিয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। সেটি যদি না হতো, তাহলে তার মনোনয়ন বাতিল হতো। তিনি নির্বাচন করতে পারতেন না, প্রধানমন্ত্রীও হতে পারতেন না। তার দলই ক্ষমতায় আসতো না।
সম্পদের হিসাব গোপন করার প্রবণতা রোধে সচেতনতা ও কঠোর নজরদারির ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের সম্পদ বিবরণী দাখিলের আহবান জানান দুদক চেয়ারম্যান।
আসন্ন নির্বাচনে প্রার্থীদের সম্পদ বিবরণী যাচাইয়ে সাংবাদিকদের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এসময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা নিজেরা খারাপ লোককে নির্বাচিত করি, চাঁদাবাজকে ভোট দেই- এর ফল পুরো জাতিকে ভোগ করতে হয়। আমাদের প্রতিষ্ঠান বহু আগেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, এখন এটি রক্ষা করতে হবে।
গণশুনানিতে ৩৪টি সরকারি দপ্তরের বিরুদ্ধে ৮১টি অভিযোগ শুনে তাৎক্ষণিক ব্যাখ্যা নেন দুদক চেয়ারম্যান। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দ্রুত সমস্যাগুলো সমাধানের নির্দেশও দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- দুদক কমিশনার (তদন্ত) মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী, দুদকের সচিব মোহাম্মদ খালেদ রহীম, পুলিশ সুপার এএনএম সাজেদুর রহমানসহ জেলা প্রশাসন ও বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধিরা।
গণশুনানির সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফীন।
