সিরাজগঞ্জে শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালে মঙ্গলবার (২১ ডিসেম্বর) দুপুর তিনটায় ফুটফুটে কন্যা সন্তানের জন্ম দিয়েছেন এক গর্ভবতী মা। কিন্তু সন্তানকে স্বীকৃতি দিতে রাজি নন বাবা। এ নিয়ে চলতি বছরের নভেম্বরে শাহজাদপুর কোর্টে অভিযোগ দায়ের হলেও এখনো চলছে অনুসন্ধান।
এদিকে অভিযোগের অনুসন্ধান করতে গিয়ে গর্ভবতী মায়ের দায়িত্ব নিয়ে হাসপাতালে ভর্তিসহ যাবতীয় ব্যবস্থা করেছে সিরাজগঞ্জ সিআইডি পুলিশ। মামলার সঠিক তদন্ত আর নবজাতকের দেখভালের দায়িত্ব নেয়া হবে বলেও জানিয়েছে সিরাজগঞ্জ সিআইডির পুলিশ সুপার।
মামলার বিবরণ ও সিআইডি সূত্রে জানা যায়, বেশ কয়েক বছর আগে শাহজাদপুরের জামিরতা গ্রামের মৃত সোরমান মন্ডলের মেয়ে পিয়ারা খাতুনের (৩২) চৌহালীর জিদপুরে বিয়ে হয়। কিন্তু সন্তান জন্মদানের পর সে সংসার আর করা হয়নি পিয়ারার। পারিবারিক কারণে তালাক পান পিয়ারা।
.jpg)
বছর খানেক আগে একই গ্রামের হাফিজুল মোবাইলে পিয়ারার সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। এক পর্যায়ে চৌহালীর খাস কাউলিয়া কাজি অফিসের কাজী রিপনের কাছে স্বাক্ষী নিয়ে বিয়েও করেন তারা। পরে পোষাক কারখানায় কাজ করার জন্য দু'জনে পাড়ি জমান ঢাকার সাভারে।
আরও পড়ুন: অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে কুপিয়ে হত্যা; অভিযুক্ত আটক
এর মধ্যে পিয়ারা অন্ত:সত্ত্বা হয়ে পড়ে। বেশ কিছুদিন পর হাফিজুল বাচ্চা প্রসবের জন্য পিয়ারাকে মায়ের কাছে পাঠিয়ে দেয়। কিন্তু এরপরই বেঁকে বসে হাফিজুল। বিয়ে, গর্ভের সন্তান সব কিছুই অস্বীকার করে সে।
উপায়ান্তর না দেখে পিয়ার চৌহালীর খাস কাউলিয়া রিপন কাজীর কাছে যায়। কিন্তু কাজী বিয়ের বিষয় অস্বীকার করে। পরে চলতি বছরের নভেম্বর মাসে শাহজাদপুর আদালতে বিয়ে এবং অনাগত সন্তানের পিতৃত্ব দাবি করে একটি অভিযোগ দায়ের করেন পিয়ারা। অভিযোগ অনুসন্ধানে নামে সিরাজগঞ্জ সিআইডি।
তদন্ত চলার মধ্যেই সোমবার প্রসবের ব্যাথা উঠলে স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীদের মাধ্যমে তদন্ত কর্মকর্তাকে ফোন দেয় পিয়ারা। মানবিক কারনে সিআইডির কর্মকর্তা শাহজাদপুরের জামিরতা থেকে পিয়ারা সিরাজগঞ্জ হাসপাতালে এনে প্রসবের সকল ব্যবস্থা করেন। মঙ্গলবার দুপুরে জন্ম নেয় একটি ফুটফুটে কন্যা সন্তান।
সিরাজগঞ্জ সিআইডির পুলিশ সুপার কামাল হোসেন জানান, মেয়েটির পিতৃত্বের পরিচয় সঠিকভাবে নিরুপনের জন্য সিআইডির তদন্ত কর্মকর্তারা কাজ করছেন। মানবিক কারনেই তারা গর্ভবতী মায়ের পাশে দাঁড়িয়েছেন। মামলার সঠিক তদন্ত ও শিশুটির পিতৃত্ব নির্ধারনে তারা সকল ধরনের পদক্ষেপ নিয়ে অসহায় মা ও শিশুটির পাশে থাকবেন।
একাত্তর/টিএ
