মানিকগঞ্জে খেজুরের গুড় তৈরির সময় ভেজাল দিচ্ছে এক শ্রেণির অসৎ কারিগর। এরই মধ্যে তাদের তিনজনকে হাতে নাতে ধরে জরিমানা করেছে প্রশাসন।
চিকিৎসকরা বলছেন, ভেজাল হিসাবে যেসব উপাদান দেয়া হচ্ছে তা খেলে লিভার ক্যান্সারের মতো ভয়াবহ মারাত্মক জটিল রোগ দেখা দেয়ার ভয় রয়েছে।
মানিকগঞ্জের সাদা গুড়ের খ্যাতি শুধু দেশেই নয়, ব্রিটেনের রানীর মনও জয় করেছে। ‘হাজারি গুড়’ হিসাবে খ্যাত এই পণ্যটির সাথে তাই মিশে আছে ইতিহাস ও ঐতিহ্য।
এ গুড়ের সুনাম রয়েছে এশিয়া থেকে ইউরোপ মহাদেশে। শুধু তাই নয় গুড় তৈরি নিয়ে রয়েছে নানা রূপকথা। যা এখনও সেখানকার মানুষের মুখে মুখে ঘুরে।
অন্য গুড়ের তুলনায় হাজারি গুড়ের দাম বেশি। স্বাদও অন্য কোনো গুড়ের সঙ্গে তুলনা করা যায় না। বর্তমানে প্রতি কেজি হাজারি গুড় বিক্রি হয় ১৪৫০-১৫০০ টাকায়।
আর এই সুযোগটিই নিতে চাইছে একশ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী। হাজারির সিল ব্যবহার করে নকল গুড় তৈরি করে বাজারে ছাড়ছেন তারা।
এক মন খেজুরের রসের সাথে দেয়া হচ্ছে এক মন চিনি ও চুন। এরপর জাল দিয়ে সেখান থেকেই তৈরি হচ্ছে দুই মন সাদা গুড়। যার সঙ্গে হাজারি গুড়ের কোন সম্পর্ক নেই।
এসব ব্যবসায়ীরা বলছেন, শুধু খেজুর রস দিয়ে এক কেজি গুড় তৈরি করতে খরচ হয় ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা। তাই খরচ কমাতেই তারা চিনি ও চুনের সমন্বয়ে গুড় তৈরি করেন।
অথচ চিকিৎসকরা জানান, চুন আর চিনি মেশানো গুড় মানুষের পেটে গেলে লিভার ক্যান্সারের মতো ভয়াবহ মারাত্মক জটিল রোগ হতে পারে।
তাই ভেজাল গুড় ব্যবসায়ীদের খুঁজে বের করে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন হরিরামপুর উপজেলার বাসিন্দারা।
মানিকগঞ্জ জেলার ভোক্তা অধিকার সংরক্ষন অধিদপ্তরের কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান রুমেল জানান, তারা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছেন। তিন ব্যবসায়ীকে জরিমানাও করা হয়েছে।
হরিরামপুরের ঝিটকা, ঠাকুরপাড়া, মাজমপাড়া, ইন্তাজগঞ্জসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় প্রায় শতাধিক ব্যবসায়ী ভেজাল গুড় তৈরির সাথে জড়িত বলে জানান এই কর্মকর্তা ।
একাত্তর/টিএ
