পটুয়াখালীর পারিবারিক কবরে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়েছে সেনা বাহিনীর সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার মো. হাবিবুর রহমানের মরদেহ।
বৃহস্পতিবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বাদ মাগরিব পটুয়াখালী পৌরসভার টাউন বহালগাছিয়াস্থ বাড়িতে তার দাফন সম্পন্ন হয়।
এর আগে স্থানীয় যুবক হাউজিং মাঠে নামাজে জানাজা ও সেনা বাহিনীর পক্ষ থেকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়।
গত বুধবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাতে বান্দরবানের রুমা জোনের একটি টহল দরের সঙ্গে সন্তু লারমা সমর্থিত জেএসএস মূল দলের সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের গোলাগুলির ঘটনায় নিহত হন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেল পাঁচটায় সামরিক হেলিকপ্টার সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার মো. হাবিবুর রহমানের মরদেহ নিয়ে পটুয়াখালী কাজী আবুল কাশেম স্টেডিয়ামে অবতরণ করে। সেখান থেকে সন্ধ্যায় অ্যাম্বুলেন্সযোগে পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের টাউন বাহালগাছিয়ার বাসায় আনা হয়। পরে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে গার্ড অব অনার ও নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
সেখানে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, মরহুম হাবিবুর রহমান ১৯৯২ সনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে সৈনিক হিসেবে যোগ দেন। এসময় সহকর্মী ও পরিবারের পক্ষে বড়ো ছেলে তার কর্মময় জীবন নিয়ে কথা বলেন।
এদিকে, হাবিবুর রহমানের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর থেকেই পরিবারে চলে শোকের মাতম। বৃদ্ধ মা বার বার আহাজারি করে মূর্ছা যাচ্ছিলেন। স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিনও ছিলেন একই অবস্থায়। ভাই-বোনরা পারছিলেন না শোক সামাল দিতে।
আরও পড়ুন: ছেলেকে শেষ বার্তা: ‘ভুল করলে ক্ষমা কোরো, অভিযানে যাচ্ছি’
সেনাবাহিনীতে চাকরি করা অবস্থায় পটুয়াখালী শহরের টাউন বহালগাছিয়ায় বাড়ি করে স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন ও দুই ছেলে হাসিব ও হাসানকে নিয়ে এখানে বসবাস করছিলেন। বাড়ির নাম দেন ‘সেনা নিকেতন’। এক বছরের মধ্যে অবসরে যাওয়ার কথা ছিলো তার। মাত্র একমাস আগেও বাড়িতে ছুটি কাটিয়ে গেছেন হাবিবুর রহমান। বড়ো ছেলে হাসিব পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট থেকে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং সম্পন্ন করে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ভর্তির প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ছোট ছেলে বাবার পথ ধরে সৈনিক হিসেবে সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছেন কিছুদিন আগে।
একাত্তর/এসি
