উত্তর আফ্রিকার দেশ মরক্কোতে প্রায় ১০৫ ফুট গভীর একটি কূপের মধ্যে পড়ে যায় শিশু রায়ান। এরপর থেকেই পাঁচ বছর বয়সী শিশুটিকে উদ্ধারের আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়েছেন উদ্ধারকর্মীরা। মরক্কোসহ সারাবিশ্বের চোখ ছিলো এ ঘটনার ওপর। শিশুটি যাতে বেঁচে ফিরে আসে এটাই ছিলো সকলের চাওয়া।
কিন্তু শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হলো সব। টানা পাঁচদিন আপ্রাণ চেষ্টার পরও রায়ানকে বাঁচাতে পারেননি উদ্ধারকর্মীরা। শোকাহত বিশ্বের কয়েক কোটি মানুষ।
স্থানীয় সময় শনিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) কূপের ভেতর থেকে রায়ানের নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে জানায়, কূপে পড়ে যাওয়ার পাঁচদিনের মাথায় শনিবার রাতে যখন শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়, তখন ঘটনাস্থলে কয়েক হাজার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। রায়ানকে হাসপাতালে নেওয়ার জন্য হেলিকপ্টারও অপেক্ষা করছিলো। কিন্তু উদ্ধারের পর জানা যায় সে আর বেঁচে নেই।
এ মর্মান্তিক ঘটনায় মরক্কোর রাজা ষষ্ঠ মোহাম্মদ শিশুটির পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। এছাড়া এ ঘটনায় সামাজিক মাধ্যমে শোক প্রকাশ করেছেন বিশ্বের কয়েক কোটি মানুষ।

জানা যায়, গত মঙ্গলবার (১ ফেব্রুয়ারি) মরক্কোর চেফচাওয়েন শহরে খেলতে গিয়ে হঠাৎই বাড়ির পাশের প্রায় ১০০ ফুট গভীর একটি পরিত্যক্ত কূপে পড়ে যায় রায়ান। এ সময় একই এলাকায় আরেকটি কূপে মেরামতের কাজে করছিলেন রায়েনের বাবা। শিশুটির নিখোঁজের খবর আসার পর জানা যায়, সে কূপের ভেতরে পরে গেছে। তাকে উদ্ধারে শুরু হয় অভিযান।
আরও পড়ুন: করোনা: বিশ্বে কমেছে মৃত্যু ও শনাক্ত
রায়ানের বাবা বলেন, সে সময় রায়ান আমার পাশেই ছিলো। কিন্তু সে যে কখন পড়ে গেছে, আমি বুঝতেই পারেননি।
এদিকে তাকে উদ্ধারে প্রায় সকল পথ অবলম্বন করেছেন উদ্ধারকর্মীরা। শুরুতে কূপের মুখ দিয়ে প্রবেশ করে শিশুটির কাছে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছিলো না। কূপের সংকীর্ণ মুখটি খোঁড়াখুঁড়ি করা বিপজ্জনক হয়ে উঠেছিল। এছাড়া মাটি ধসের শঙ্কাও ছিলো।
পরে কূপটির পাশেই বুলডোজার দিয়ে খোঁড়া হয় নালা। এভাবেই শিশুটির কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করা হয়। অবশেষে শনিবার সন্ধ্যায় তার কাছে পৌঁছতে সক্ষম হন উদ্ধারকর্মীরা। কিন্তু ততক্ষণে পাঁচ বছরের রায়ানের মৃত্যু হয়েছে।
দেশটির প্রধানমন্ত্রী আজিজ আখানউচ বলেন, খবর পেলাম রায়ানের মৃত্যু হয়েছে। শিশুটিকে বাঁচানোর জন্য সকল চেষ্টা করা হয়েছে। আল্লাহ তার উপর রহম করুন।
একাত্তর/আরবিএস
