ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ হরমোজগানের মিনাব শহর মঙ্গলবার এক বিষণ্ণ জনপদে পরিণত হয়েছে। গত শনিবার থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি ও মার্কিন আগ্রাসনের এক ভয়াবহ শিকারে পরিণত হয়েছে স্থানীয় 'শাজারেহ তাইয়্যেবেহ' প্রাথমিক বিদ্যালয়। সেই পৈশাচিক হামলায় প্রাণ হারানো কোমলমতি শিশুদের শেষ বিদায় জানাতে মঙ্গলবার সকালে রাজপথে নেমে আসে হাজারো শোকাতুর মানুষ।
মঙ্গলবার সকাল থেকেই মিনাবের অলিগলি লোকে লোকারণ্য হয়ে ওঠে। শোকমিছিলে অংশ নেওয়া পরিবারগুলোর হাতে ছিল ছোট ছোট কফিন আর তাদের প্রিয় সন্তানদের ছবি। যে শিশুদের কলকাকলিতে বিদ্যালয় মুখরিত থাকার কথা ছিল, আজ তাদের নিথর দেহ নিয়ে মা-বাবারা আহাজারি করছেন। শহরজুড়ে প্রতিধ্বনিত হচ্ছিল শোকাতুর মানুষের কান্না আর বিদেহী আত্মার জন্য প্রার্থনা।

তিন দিন আগে চালানো এই সুনির্দিষ্ট হামলায় দুই তলা বিশিষ্ট স্কুল ভবনটি পুরোপুরি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ভবনটির নিচতলায় ছিল ছেলেদের স্কুল এবং ওপরতলায় মেয়েদের শাখা। সম্পূর্ণ বেসামরিক এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হামলার ফলে এখন পর্যন্ত ১৬৫ জন শিশু প্রাণ হারিয়েছে এবং আহত হয়েছে আরও প্রায় ১০০ জন। মিনাবের প্রসিকিউটর এই আক্রমণকে ‘পৈশাচিক’ ও ‘বর্বর’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, নিহতদের মধ্যে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষক এবং কয়েকজন অভিভাবকও রয়েছেন।
হামলার পরপরই ধ্বংসস্তূপ থেকে কালো ধোঁয়া উঠতে দেখা যায় এবং চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে বই-খাতা আর আসবাবপত্রের অবশিষ্টাংশ। জরুরি উদ্ধারকারী দলগুলো যখন ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে শিশুদের দেহ উদ্ধার করছিল, তখন সেখানে উপস্থিত স্বজনদের আর্তনাদ বাতাস ভারী করে তুলেছিল।

এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি বলেন, এই বিশ্বাসঘাতকতামূলক এবং অমানবিক হামলা কেবল ইরানিদের নয়, বিশ্বের প্রতিটি মুক্তিকামী মানুষের হৃদয়কে ব্যথিত করেছে। এই বর্বরোচিত কাজ আগ্রাসীদের অপরাধের দীর্ঘ তালিকায় আরও একটি কালো অধ্যায় হয়ে থাকবে, যা আমাদের জাতির স্মৃতি থেকে কোনোদিন মুছে যাবে না।
ইরানি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, শনিবার থেকে শুরু হওয়া এই আগ্রাসনে এখন পর্যন্ত শিশুসহ মোট ৫৫০ জনেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। মিনাবের এই স্কুল হত্যাকাণ্ড সেই ভয়াবহতার এক নির্মম প্রতিচ্ছবি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
