রাশিয়ার চলমান আগ্রাসনে আরো একটি রক্তাক্ত রাতের সাক্ষী হলো ইউক্রেন। সেই সঙ্গে যুদ্ধের ষষ্ঠ দিনের সকালে প্রায় ৪০ মাইল দীর্ঘ এক সাঁজোয়া বহর নিয়ে কিয়েভের দিকে এগিয়ে যেতে শুরু করেছে রাশিয়া। সেই সঙ্গে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে বেরিয়ে পড়েছে লাখো মানুষ।
ইউক্রেন কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে, রুশ কামানের গোলা বর্ষণে তাদের কমপক্ষে ৭০ জন সেনা নিহত হয়েছে। জরুরি উদ্ধারকারী দল ধ্বংস স্তূপের নিচ থেকে জীবিতদের উদ্ধারের চেষ্টা করে যাচ্ছে। এখনো ঘটনাস্থলের বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

খারসন অঞ্চলের চারিদিক ঘিরে ফেলেছে রাশিয়ার সেনারা। বিবিসি জানিয়েছে, সেখানে চারদিক থেকেই রুশ সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম প্রবেশ করছে। অন্যান্য গণমাধ্যম দাবি করছে, এরিমধ্যে খারসনের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ফেলেছে রাশিয়া। তবে ইউক্রেন তরফে কিছু বলা হয়নি।
এদিকে, প্রায় ৪০ মাইল লম্বা একটি রাশিয়ার সাঁজোয়া বহরের ছবি ধরা পড়েছে উপগ্রহ চিত্রে। বহরটি ধীরে ধীরে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের দিকে এগোচ্ছে বলে দেশটি জানিয়েছে। ওই বহরে বিপুল পরিমাণ যুদ্ধের ট্যাংক ও সাঁজোয়া গাড়ি আছে। আছে প্রচুর সেনাও।
এই খবর ছড়িয়ে পরার আগেই কিয়েভের আশপাশের অঞ্চলে বোমা মারতে শুরু করেছে রাশিয়া। কিয়েভে হামলার সাইরেন বাজানো হয়েছে। সবাইকে নিরাপদ আশ্রয়ে ঢুকে পড়তে বলা হয়েছে। যারা পাতাল রেল স্টেশন থেকে বেরিয়েছিলেন তারাও ফিরতে শুরু করেছে।

অন্যদিকে, ইউক্রেনের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল খারকিভের পরিস্থিতিও ভালো নয়। সোমবার সেখানে লাগাতার মিসাইল হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। শহরের মেয়র দাবি করেছেন, হামলায় বহু সাধারণ মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
নাগরিকদের বেসমেন্টে আশ্রয় নিতে বলা হয়েছে বলে তিনি জানান। খারকিভে খাদ্য এবং খাবার পানির সরবরাহ ক্রমশ কমে আসছে বলেও মেয়র জানিয়েছেন। তাই এই মুহূর্তে জরুরি ত্রাণ ও খাদ্য সহায়তার আহবান জানিয়েছেন খারকিভের মেয়র।

দক্ষিণ ইউক্রেনের বন্দর শহর বারদিয়ানস্ক রাশিয়া পুরোটাই দখল করেছে বলে অভিযোগ করেছে ইউক্রেন। সেখানেও রাশিয়ার বিশাল সমরসজ্জার কথা জানিয়েছে প্রত্যক্ষদর্শীরা। সেখান থেকে ৮৫ কিলোমিটার দূরে মারিউপলে প্রবল যুদ্ধ চলছে। অঞ্চলটিও দখল নিতে চেষ্টা করছে রাশিয়া।
রাশিয়া পাল্টা দাবি করেছে যে, ইউক্রেনও বহু জায়গায় সাধারণ মানুষের উপর হামলা চালাচ্ছে। রুশ সমর্থিত বিচ্ছিন্নতাবাদীদের অঞ্চল দোনেস্কে লাগাতার গোলাবর্ষণ করছে বলে অভিযোগ। সাধারণ মানুষের ঘর ভাঙছে এবং বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেছে রাশিয়া।

একাত্তর/এআর
