ইউক্রেন আগ্রাসন থামাতে রাশিয়ার তেল, গ্যাস ও কয়লা আমদানির ওপর পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, মঙ্গলবার (৮ মার্চ) হোয়াইট হাউজে এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।
বাইডেন বলেন, রাশিয়ার তেল-গ্যাস ও জ্বালানি আমদানি নিষিদ্ধ করছি। মার্কিন বন্দরে রাশিয়ার তেল আর প্রবেশ করবে না। এর মাধ্যমে আমেরিকান জনগণ পুতিনের যুদ্ধযন্ত্রে আরেকটি শক্তিশালী ধাক্কা দেবে। যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ রুশ অর্থনীতির প্রধান অস্ত্র অর্থাৎ জ্বালানি খাত চাপে পড়বে।
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যে পদক্ষেপ নিতে পারে অন্যরা তা পারে না। তবে আমরা ইউরোপ এবং আমাদের অংশীদারদের সঙ্গে রাশিয়ান জ্বালানির ওপর তাদের নির্ভরতা কমাতে একটি দীর্ঘমেয়াদী কৌশল তৈরি করতে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছি।
তবে বাইডেনের এই ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই বিশ্ববাজারে তেলের দাম ৫ শতাংশের বেশি বেড়ে ব্যারেল প্রতি প্রায় ১৩৯ মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। যা গত ১৪ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।
রাশিয়া বিশ্বের শীর্ষ প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদনকারী দেশ, ক্রুড অয়েল বা অপরিশোধিত তেল উৎপাদনে তাদের অবস্থান দ্বিতীয়।
আরও পড়ুন: গুজব মিথ্যা করে টিসিবি ট্রাকে মিলছে সয়াবিন তেল
অক্সফোর্ড ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি স্টাডিজ সূত্র মতে, ২০২১ সালে বিশ্বের মোট তেলের ১৪ শতাংশ এসেছে রাশিয়া থেকে। রাশিয়ার মোট তেল রপ্তানির ৬০ শতাংশ যায় ইউরোপে। আর এশিয়ায় রপ্তানি হয় ৩৫ শতাংশ।
উল্লেখ্য, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনের সামরিক অভিযান ঘোষণার কয়েক মিনিট পরেই ইউক্রেনে সামরিক আগ্রাসন শুরু করে রুশ সেনারা। ইতিমধ্যে ইউক্রেনের প্রায় ২০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। ইউক্রেনের দাবি, দেশটির দুই হাজারের বেশি বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে রাশিয়ার ১১ হাজার সৈন্য নিহত হয়েছে বলেও দাবি করেছে ইউক্রেন।
তবে জাতিসংঘ জানিয়েছে, রুশ হামলায় এখন পর্যন্ত ইউক্রেনের ৩৬৪ বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা হয়তো অনেক বেশি বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
একাত্তর/আরবিএস
