উজানে ভারত থেকে আসা পাহাড়ি ঢল আর সামাল দিতে পারছে না সুনামগঞ্জের নদীগুলো। এর বড় কারণ, পাহাড়ি নদীর তলদেশে মাটি জমাট হয়ে কমেছে গভীরতা।
তাই মেঘালয়ে পাহাড়ি ঢল হলেই হাওরের বাঁধ উপচে পানি ঢোকে জমিতে। ভেঙে যায় ফসল রক্ষার বাঁধ। তলিয়ে যায় শত শত হেক্টরের ফসল, বিশেষ করে বোরো ধান।
সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক জাহাঙ্গীর হোসেন বলেছেন, মেঘালয়ে এবার রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টির কারণে হাওরে বাঁধগুলোর ক্ষতি হয়েছে।
গেলো দুই দিনের পাহাড়ি ঢলেই সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার চন্দ্র সোনারথাল হাওরের ডোবাইল বাঁধ ভেঙ্গে তলিয়ে গেছে ২২০ হেক্টর জমি।
পানি থেকে ধান বাঁচাতে এবার আগে ভাগেই মাঠ পাহারায় নেমেছিলো কৃষক। হাওরের আধা পাকা ধান কাটতে শুরু করেছেন কৃষকরা।
রাতের বাকি জমিও তলিয়ে যেতে পারে। সেই আতঙ্কে কৃষক। প্রশাসনের সহায়তা আর স্বেচ্ছাশ্রমের উপরই ভরসা রাখতে হচ্ছে তাদের।
চন্দ্র সোনার থাল হাওর ডুবলেও পাশের ধারাম হাওরের প্রায় দুই হাজার হেক্টর জমি বাঁচাতে দেয়া হচ্ছে অস্থায়ী বাঁধ।
কৃষকরা বলছেন, বাঁধের নীচ থেকে মাটি তুলে বাঁধ নির্মাণ করায় সেগুলো টিকছে না। আর এমন গাফলতির কারণে প্রতি বছরই পাহাড়ি ঢলে তলিয়ে যায় তাদের স্বপ্নের ফসল।
কৃষকরা বলছেন, আধাপাকা ধান কাটায় এবার তারা বিপুল ক্ষতির মুখে পড়বেন তারা। তাদের অভিযোগ, বাঁধ নির্মাণে অনিয়মের কারণের প্রতি বছরই এমন ক্ষতি নিয়তি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জেলা প্রশাসক বলছেন, মেঘালয়ে এবার বৃষ্টি বেশি হবার কারণে বাঁধগুলো ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। গভীরতা কমে যাওয়ায় নদীগুলোও আর পানি ধরে রাখতে পারছে না।
তবে ধানের উৎপাদনে যেন ঘাটতি না হয় তাই বর্ষায় হাওরের ফসল রক্ষার ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সুনামগঞ্জ জেলার প্রশাসক।
একাত্তর/এআর
