বাজার মনিটরিংয়ের নামে ভাইরাল হওয়ার উদ্দেশ্যে সুনির্দিষ্ট আইন ছাড়াই জরিমানা করা হচ্ছে। অভিযানের আতঙ্ক বাজারকে আরো অস্থির করছে।
এমন অভিযোগ করেছেন কাওরানবাজার ব্যবসায়ীদের নেতাদের। তবে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলছেন, শাস্তির মাত্রা কম হওয়ায় বাজারে অনিয়ম থামছেনা।
নিত্যপন্যের বাজার এখন নিত্যদিন অস্থির। কোনো না কোনো কারণ এবং অজুহাতে বাড়ছে একা বা একাধিক পণ্যের দাম। তবে এখনো সবচেয়ে আলোচিত ভোজ্য তেলের বাজার।
এক বছরে হয়েছে প্রায় দ্বিগুন। এনিয়ে ঘাম ঝড়াতে হচ্ছে স্বয়ং বানিজ্যমন্ত্রীরও।নানা সময় অভিযান পরিচালনা করার পরও কিছুতেই লাগাম টানা যাচ্ছে না বাজারের।
তেলের বাজারে অস্থিরতার কারণ খুজতে কাওরান বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সঙ্গে বৃহস্পতিবার বৈঠক করে দেশে শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠন এফবিসিসিআই নেতারা।
এ সময় কাওরান বাজারের ব্যবসায়ীরা বলেন, খুচরা বাজারে তেল সবরবাহ চাহিদার চেয়ে কম। তবু ভোক্তা অধিদপ্তর সেখানেই অভিযান করছে। কোন আইনে অভিযান তাও বলা হচ্ছেনা।
কারওয়ান বাজার কিচেন মার্কেট মালিক সমিতির ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন,ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর আইনের বাইরে গিয়ে জরিমানা করছে।
সমিতির সভাপতি বাবুল মিয়া বলেন, দেখা যায় একটি দোকানে পণ্য আছে দুইলাখ টাকার। কোনো অভিযোগ পেলে তাকে জরিমানা করা হয় এক লাখ টাকা।
সমিতির সাধারণ সম্পাদক সফিকুল ইসলাম লোকমান বলেন, ব্যবসায়ীদের সম্মানহানিনা করে সহযোগিতা করুন। তাতে বাজার স্থিতিশীল হবে। শায়েস্তা করলে হিতে বিপরীত হবে।
এ সময় এফবিসিসিআই সহ-সভাপতি মোস্তফা আজাদ বাবু বলেন, সবাইকেই আইন মেনে ব্যবসা করতে হবে। তেলের বাজার অস্থিরতার জন্য ডিও পদ্ধতিকে দায়ী করেন তিনি।
মোস্তফা আজাদ বলেন, ১৫ দিন পরপর নিত্যপণ্যের মূল্য সমন্বয় করতে হবে।ভোক্তা অধিকার আইনে আছে, আগে থেকে জানিয়ে আসতে হবে।
তারা যেভাবে অভিযান পরিচালনা করছে, সেটা যুক্তিযুক্ত নয়। আর বাজার সমিতির দায়িত্ব নিতে হবে, যেন ব্যবসায়ীরা সঠিক মূল্যে পণ্য বিক্রি করে।
তিনি বলেন, ভোক্তা অধিকারের অভিযান ও মজুত বিষয়ে উল্লিখিত আইনের ব্যাপারে ব্যবসায়ীরা অবগত নন। সবাই এ-সংক্রান্ত আইন সম্পর্কে অবগত করতে হবে।
এদিকে একই দিনে রাজধানীতে এক সেমিনারে ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জানান, তারা আইন মেনে এবং সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনেই অভিযান চলছে।
অধিদপ্তরের প্রধান এ এইচ এম সফিকুজ্জামান বলেন, খুচরা বিক্রেতা কিংবামিলার সবার অনিয়মের জন্যাই শাস্তির মাত্রা কম থাকাও বাজারে অনিয়মের বড় কারণ।
একাত্তর/এসএ
