নিখোঁজের তিনদিনের মাথায় পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার ব্যবসায়ী স্বপন ফকিরকে (৩২) উদ্ধার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ জুন) রাতে গলাচিপা উপজেলার গোলখালী এলাকা থেকে তাকে জেলেরা উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেন। বর্তমানে তিনি গলাচিপা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।
পরিবারের দাবি, উদ্ধারের সময় স্বপনের হাত-পা ও চোখ বাঁধা ছিল এবং মুখ স্কচটেপ দিয়ে পেঁচানো ছিল।
এর আগে গত রোববার রাতে উপজেলার চালিতাবুনিয়া ইউনিয়নের চরলতা গ্রামের ভূষা মাল ব্যবসায়ী স্বপন নিখোঁজ হন। পরিবারের ভাষ্য ছিল, স্বপনকে অপহরণ করে তাকে দিয়েই মোবাইলে পরিবারের কাছে এক লাখ টাকা মুক্তিপণ চাওয়া হয়। নিখোঁজের এ ঘটনায় সোমবার সকালে রাঙ্গাবালী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়।
উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করে স্বপনের বোনজামাই ব্যবসায়ী ইদ্রিস মুন্সি বলেন, ‘গোলখালীর ঠোডায় হাত-পা ও চোখ এবং মুখ স্কচটেপ দিয়ে বাঁধা অবস্থায় রাস্তার ঢালে স্বপনকে ফেলে রেখে যায় অপহরণকারীরা। স্থানীয় জেলেরা মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টায় তাকে খুঁজে পান। পরিবারের লোকজন রাত দেড়টায় সেখানে গিয়ে স্কচটেপ ও কাপড় পান। স্বপনের হাত-পা কাপড় দিয়ে বাঁধা ও মুখ স্কচটেপ দিয়ে আটকানো ছিল জানিয়েছেন তিনি।
পরিবারের অভিযোগ, স্বপনকে ৪-৫ জন লোক ধরে নিয়ে যায়। খাওয়া-দাওয়া করায়নি। মারধর করেছে। পরে মাছ ধরতে গিয়ে জেলেরা তাকে পায় এবং পরিবারকে জানায়।
ব্যবসায়ী স্বপন নিখোঁজের এ ঘটনার তদন্ত কর্মকর্তা রাঙ্গাবালী থানার এসআই আল আমিন জানান, ‘পরিবারের লোকজন জানিয়েছে স্বপনকে ওই অবস্থায় পাওয়া গেছে। তবে পুলিশের তদন্ত এখনও অব্যাহত আছে। এটি অপহরণ নাকি কোন নাটকীয়তা আছে, এটা পুলিশ তদন্ত করছে।’
আরও পড়ুন: চমেকে স্বজনের খোঁজে এখনো ছবি নিয়ে ঘুরছেন অনেকে
উল্লেখ্য, ব্যবসায়ী স্বপন নিখোঁজের পর পরিবারের দাবি ছিল, শুক্রবার ডাল বিক্রি করতে পার্শ্ববর্তী উপজেলা গলাচিপায় যান ভূষা মাল বিক্রেতা স্বপন। পরে রোববার বিকেল সাড়ে ৪টায় নিজ বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়। পৌনে ৯টায় খেয়া পার হয়ে উত্তর চরলতা গাছবন এলাকা পৌঁছান তিনি।
এরপর রাত ১১টা ৪৮ মিনিটে বোন হোসনেয়ারা বেগমের মুঠোফোনে স্বপনের ব্যবহৃত মোবাইল থেকে একটি কল আসে। কলটি রিসিভ করলে অপর প্রান্ত থেকে কান্নাকাটি করে নিজের জীবন বাঁচাতে বোনকে মুক্তিপণের এক লাখ টাকা জোগাড় করে দিতে আকুতি করেন স্বপন।
একাত্তর/এসজে
