রুশ অঞ্চল কালিনিনগ্রাদে পণ্য পৌঁছাতে রেল ট্রানজিট বাতিল করে দেওয়ায় লিথুয়ানিয়াকে হুশিয়ারি দিয়েছে রাশিয়া।
মঙ্গলবার (২১ জুন) মস্কো লিথুয়ানিয়াকে এই শত্রুতামূলক পদক্ষেপের ‘ধারাবাহিক পরিণতি ভোগ’ করতে হবে বলে সতর্ক করে।
উর্ধ্বতন রুশ নিরাপত্তা কর্মকর্তা নিকোলাই পাত্রুশেভ বলেন, ‘রাশিয়া অবশ্যই এই শত্রুতামূলক পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়া দেখাবে।’
কালিনিনগ্রাদে পণ্য পৌঁছাতে লিথুয়ানিয়ার রেল ট্রানজিট ব্যবহার করে রাশিয়া। সেখানে পণ্য পৌঁছানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে লিথুয়ানিয়া বলেছে তারা কেবল ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নিষেধাজ্ঞা অনুসরণ করছে।
কৌশলগত অঞ্চল হিসেবে কালিনিনগ্রাদের গুরুত্ব অনেক বেশি। এই অঞ্চলে রাশিয়ার বাল্টিক বহরের সদর দফতর। রাশিয়ার মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে এর কোনও সীমানাও নেই। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯৪৫ সালে জার্মানির কাছ থেকে কালিনিনগ্রাদ দখল করে নেয় রাশিয়া। এই অঞ্চলটির সঙ্গে ইইউ এবং ন্যাটো সদস্য দেশ লিথুয়ানিয়া এবং পোল্যান্ডের সীমান্ত রয়েছে।

মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ততা না থাকায় অঞ্চলটি মারাত্মকভাবে লিথুয়ানিয়ার ভেতর দিয়ে যাওয়া রেল ট্রানজিটের ওপর নির্ভর করে। ইইউ লিথুয়ানিয়ার বিবৃতির প্রতিধ্বনি করে বলেছে দেশটি কেবল ইউক্রেনে সামরিক অভিযানের জেরে রাশিয়ার ওপর ইইউ এর আরোপ করা নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন করছে।
মঙ্গলবার (২১ জুন) কালিনিনগ্রাদ সফরের সময় রুশ নিরাপত্তা কর্মকর্তা নিকোলাই পাত্রুশেভ বলেন, লিথুয়ানিয়ার এই অবরোধ পশ্চিমাদের আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন। রাশিয়ার নিরাপত্তা কাউন্সিলের এই সেক্রেটারি বলেন এজন্য নিকট ভবিষ্যতে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গত সপ্তাহেই লিথুয়ানিয়ার কর্তৃপক্ষ ঘোষণা করে তারা ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়া পণ্যগুলোকে তাদের অঞ্চল দিয়ে কালিনিনগ্রাদে পৌঁছানো নিষিদ্ধ করবে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী গ্যাব্রিয়েলাস ল্যান্ডসবার্গিস বলেন, এখানে লিথুয়ানিয়া কিছু করছে না। এটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞা যা ১৭ জুন থেকে কার্যকর হচ্ছে।
এই নিষেধাজ্ঞা ইউরোপীয় কমিশনের পরামর্শে এবং ইউরোপীয় কমিশনের নির্দেশিকা অনুসারেই কার্যকর হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
একাত্তর/জো
