জয়পুরহাটে স্ত্রীকে খুন করার ২০ বছর পর মো. নয়ন নামে এক ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।
রোববার (২৪ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. গোলাম সারোয়ার এ রায় দেন।
রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) নৃপেন্দ্রনাথ মণ্ডল।
তিনি জানান, আসামিকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রায় কার্যকর করার আদেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণী সূত্রে জানা যায়, প্রায় ২৬ বছর আগে মো. নয়নের (৪৫) সঙ্গে একই উপজেলার ঢাকারপাড়া গ্রামের মোকছেদ আলীর মেয়ে মোছা. রেশমার (ফুরকুনী) বিয়ে হয়। বিয়ের পর তাদের সংসারে এক মেয়ের জন্ম হয়।
বিয়ের কিছু দিন পর থেকে সাংসারিক বিষয় নিয়ে নয়ন ও রেশমার মধ্যে মনোমালিন্য চলে আসছিল। এ নিয়ে নয়ন তার স্ত্রীকে বিভিন্নভাবে নির্যাতন করতেন।
২০০২ সালের ৯ নভেম্বর পারিবারিক কারণে নয়ন রেশমাকে এলোপাথাড়ি মারপিট করেন এবং তার গলা চেপে ধরে বাড়ির পাশের পুকুরে ফেলে দেন। পরে প্রতিবেশীরা তাকে উদ্ধার করে।
এ ঘটনার পরদিন নয়ন রেশমাকে আবারও মারপিট করেন ও তার বুকের ওপর ওঠে লাথি মারেন। এতে রেশমা জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন এবং সেখানেই মারা যান।
ঘটনার দিনই রেশমার ভাই আবীর মণ্ডল বাদী হয়ে নয়নকে আসামি করে পাঁচবিবি থানায় মামলা করেন। পুলিশ মামলাটি রেকর্ড করে তৎকালীন উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুস সাত্তারকে তদন্তের দায়িত্ব দেন। তদন্ত শেষে ২০০৩ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি পুলিশ অভিযোগপত্র দাখিল করে।
আরও পড়ুন: ফেসবুকে ভুয়া পেইজ খুলে প্রতারণা, গ্রেপ্তার এক
মামলার রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সরকারি কৌঁসুলি নৃপেন্দ্রনাথ মণ্ডল ও আইনজীবী (এপিপি) গকুল চন্দ্র বর্মণ। আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. হাসান আলী ও আবু কাইছার।
হাসান আলী জানিয়েছেন, তারা এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।
