কখনো না কখনো বৃষ্টির ঝাঁপটা এসে মনে দোলা দেয়নি, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। হতে পারে সেই ঝাঁপটা আনন্দের কিংবা আতঙ্কের, নীরব আকাঙ্ক্ষার কিংবা অব্যক্ত অভিমানের।
বৃষ্টিকে মহিমান্বিত করে পৃথিবী জুড়ে রচিত গান, গল্প কিংবা কবিতার সংখ্যা নিতান্তই কম নয়। বাংলা ভাষায় বুদ্ধদেব বসুর উপন্যাস 'রাত ভ'রে বৃষ্টি' আবুল হাসাবের কবিতা 'বৃষ্টি চিহ্নিত ভালোবাসা' কিংবা শিরোনামহীনের গান 'বৃষ্টিকাব্য' সেই ধারাবাহিকতারই অংশ। এবার বৃষ্টিবন্দনার এই মিছিলে যুক্ত হয়েছে আরও একটা নাম। নির্মাতা ও অভিনেতা জিয়াউল হক পলাশের নির্মিত প্রথম গানচিত্র 'বৃষ্টি তুমি ইশ!' এ দেখা গেছে নাগরিক জীবনে বৃষ্টিবন্দার এক কাব্যিক প্রতিচ্ছবি।
শরতের এক বৃষ্টির দুপুরেই 'বৃষ্টি তুমি ইশ! নিয়ে নির্মাতা জিয়াউল হক পলাশের সাথে কথা হলো একাত্তর অনলাইনের।
দর্শক যখন পলাশের কাজ দেখে, প্রথমত পলাশের অভিনীত কাজগুলোই দেখে। সেটা হতে পারে ব্যাচেলর পয়েন্টের দর্শক নন্দিত চরিত্র কাবিলা, কিংবা সমাচোলকদের প্রশংসা কুড়ানো বলি'র নিজামের জন্য। তো পলাশ যখন নিজের নির্মিত প্রথম গানচিত্রে দর্শকদের কিছু দেখাতে চেয়েছেন, সেখানে নির্মাতা পলাশের আকাঙ্ক্ষা কতটুকু প্রতিফলিত করতে পেরেছে তা জানতে চাওয়া হয়েছিল স্বয়ং নির্মাতার কাছেই।
গানের নির্মাণ প্রসঙ্গে পলাশ বলেন, আসলে বৃষ্টি নিয়ে কাজ করার আগ্রহ তো আমার অনেক দিনের। বৃষ্টির সাথে অনেক সৃতি অনেক গল্প জড়িয়ে আছে। ২০১৯ সালে যখন গানটার মিউজিক ভিডিও করার অফার পেলাম- আমি সাথেসাথেই রাজি হয়ে যাই। সেই শখের জায়গা থেকেই কাজটা করা।
'কোনোকিছুরই তো প্রতিফলন কখনো শতভাগ দেখা যায় না, 'বৃষ্টি তুমি ইশ!' এদিক থেকে আমি এগিয়েই রাখবো। অনেক বড় আয়োজনে ভিডিওটি নির্মাণ করেছি। সর্বোচ্চ চেষ্টা ছিল, যাতে কোনও কিছুর কমতি না থাকে। যেমনটা বানাতে চেয়েছিলাম, প্রায় সেটাই পেয়েছি।'
'আর অভিনেতা পলাশের সাথে নির্মাতা পলাশের বৈশিষ্টের তো কিছু পার্থক্য আছেই। অভিনেতা পলাশকে নির্মাতারা চরিত্র নির্ধারণ করে দেয়, আমি সেই চরিত্র হিসেবেই কাজটা করার চেষ্টা করি। অভিনেতা পলাশের কোনো কাজের প্রতিফল নির্মাতা পলাশের ভেতর দেখতে পাওয়া যায়না। দুইটা সম্পূর্ণ আলাদা সত্ত্বা। কিন্তু দুইটা সত্ত্বাকেই আমি ভালোবাসি। '
'বৃষ্টি তুমি ইশ! নির্মাণের পেছনে জড়িত স্মৃতিগুলো জড় করে পলাশ বলেন, 'ছোটবেলা থেকেই বৃষ্টি আমার জীবনে আতঙ্কে আর আনন্দে একাকার হয়ে মিশে আছে। আমি নাখালপাড়ার মহল্লায় বড় হয়েছি। আমরা পুরাতন একটা একতলা বাসায় থাকতাম, বৃষ্টি হলেই রাস্তায় গড়িয়ে বৃষ্টির পানি আমাদের ঘরে উঠতো। ব্যাপারটা ছিল আতঙ্কের। কারণ দুই-তিন দিন ধরে পানি উঠে থাকতো, বাবা মায়ের খুব কষ্ট করতে হতো সেই পানি অপসারণ করতে। বেশ ভোগান্তির মধ্যে দিয়ে যেতে হতো পরিবারের।'
'আবার একই সাথে আনন্দও লাগতো, কারণ ওই পরিবেশে পড়ার টেবিল চেয়ার বিশেষ কোনো কাজে আসতো না। তখন পড়ালেখা একটু কম করা লাগতো।'
তবে বৃষ্টি সংক্রান্ত ছোটবেলার অনুভূতি বড়বেলায় এসে অনেকটা বদলে যায় জানিয়ে পলাশ বলেন, একতলা বাসা থেকে যখন আমরা ফ্ল্যাট বাড়িতে উঠি, তখন দেখলাম, উপর থেকে বৃষ্টিটা দেখতে অন্যরকম লাগে। যেখানে ঘরে পানি ওঠে না, এবং পানি অপসারণের টেনশনও থাকে না, মূলত তখনই শুরু হতে থাকে বৃষ্টি সংক্রান্ত নানান অনুভূতির আবিষ্কার।
'বয়স বাড়ার সাথে সাথে আবিষ্কার করলাম, আমি যখন বিষণ্ণ থাকি, বৃষ্টি কিভাবে যেন আমাকে আরও বেশি বিষণ্ণ করে তোলে। এভাবেই ধীরে ধীরে কখন যে বৃষ্টির সাথে আমার একটা অদ্ভুত সম্পর্ক গড়ে উঠছে আমি আসলে জানিনা।'
নিজের ভাবনায় যেভাবে বৃষ্টি দেখেছেন সেভাবেই এই গানচিত্রে ফুটিয়ে তুলতে চেয়েছেন জানিয়ে পলাশ বলেন, এই মিজিউক ভিডিওতেও ছেলে মেয়ে দুটো বৃষ্টিকে যেভাবে উপভোগ করছে, একইসাথে বৃষ্টি নিয়ে তাদের ভেতর অপেক্ষা আর আক্ষেপও লক্ষ্য করবে দর্শকরা।
উল্লেখ্য, গত ১ সেপ্টেম্বর প্রকাশ হয়েছে ‘বৃষ্টি তুমি ইশ!’ শিরোনামের গানচিত্রটি। গেয়েছেন রিয়াদ হাসান। অনিক খানের কথায় গানটির সুর-সংগীত করেছেন ফাইজান খান চিন্টু। গানের ভিডিওতে অভিনয় করেছেন ইমরান আহমেদ সওদাগর ও সারিকা সাবাহ। এটি প্রকাশ হয়েছে অলিভ এন্টারটেইনমেন্টের ব্যানারে।
