ইউক্রেন ও তার পশ্চিমা সমর্থকদের কাছ থেকে হামলার স্পষ্ট হুমকি রয়েছে উল্লেখ করে রুশ বাহিনীর সঙ্গে যৌথভাবে বেলারুশের সেনা মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট অ্যালেক্সান্ডার লুকাশেঙ্কো।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার (১০ অক্টোবর) বেলারুশে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে এক বৈঠকে এ কথা জানিয়েছেন তিনি। তবে হামলার দাবির স্বপক্ষে কোনো প্রমাণ দেননি তিনি।
লুকাশেঙ্কো বলেন, বেলারুশের ভূখণ্ডে হামলার বিষয়ে শুধু আলোচনাই করা হচ্ছে না বরং এর পরিকল্পনাও করা হচ্ছে। তাদের (ইউক্রেনীয়) মালিকরা বেলারুশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার জন্য চাপ দিচ্ছে, যাতে আমাদেরকে যুদ্ধে টেনে নেওয়া যায়।
তিনি আরও বলেন, আমরা কয়েকদশক থেকেই এসবের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি। প্রয়োজন হলে আমরা জবাব দেব।
সেন্ট পিটার্সবার্গে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে এক বৈঠকে চলমান পরিস্থিতি নিয়ে তার কথা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, আঞ্চলিক একটি সামরিক দল মোতায়েন করা নিয়ে পুতিনের সঙ্গে তার মতৈক্য হয়েছে এবং দু’দিন আগে একসঙ্গে সেনা একত্রিত করার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।
এদিকে শনিবার ক্রিমিয়া সেতুতে হামলার ঘটনা নিয়ে লুকাশেঙ্কো বলেন, ইউক্রেন ক্রাইমিয়ান ব্রিজ-২ নিয়ে পরিকল্পনা করেছে বলে বেসরকারি একটি চ্যানেলের মাধ্যমে বেলারুশ একটি সতর্কবার্তা পেয়েছিল। যদিও সেই সতর্কবার্তার বিষয়ে আর কিছু জানাননি তিনি।
বৈঠকে ইউক্রেনকে সতর্ক করে তিনি বলেন, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ও অন্যান্য পাগলদের বলুন, তারা যদি আমাদের ভূখন্ডের এক মিটারও স্পর্শ করে তাহলে এমন জবাব পাবে যে, ক্রিমিয়া সেতু তখন তাদের কাছে তুচ্ছ মনে হবে।
রয়টার্স বলছে, ১৯৯৪ সাল থেকে বেলারুশের ক্ষমতায় আছেন অ্যালেক্সান্ডার লুকাশোঙ্কো। ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে তার নতুন অবস্থান এ যুদ্ধের মাত্রা বাড়িয়ে দেবে।
উল্লেখ্য, রাশিয়ার প্রতিবেশি দেশ বেলারুশের সেনাবাহিনীতে আছে প্রায় ৬০ হাজার সেনা। এছাড়াও দেশটির একাধিক বাহিনীতে আছে আরও কয়েক হাজার সদস্য।
আরও পড়ুন: ভারতে গরুকে জাতীয় পশু ঘোষণার আবেদন খারিজ
চলতি বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসন শুরুর পর থেকে রাশিয়াকে সমর্থন দিয়ে আসছে দেশটি। বেলারুশের মাটিকে ঘাঁটি হিসাবে ব্যবহার করে আসছে রাশিয়া।
উল্লেখ্য, শনিবার ক্রিমিয়া ব্রিজে ভয়াবহ বিস্ফোরণের পর ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে দফায় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। বাদ যায়নি কিছুই। এমনকি সেখানে অবস্থিত জার্মানির দূতাবাসেও ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে।
একাত্তর/আরবিএস
