সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটার কেনার আগ থেকেই এ নিয়ে নানা বিতর্কিত সিদ্ধান্তের কারণে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে আসছিলেন ইলন মাস্ক। প্রতিষ্ঠানটির মালিক হয়েও যেন তার সেই ধারা থামছে না। এবার টুইটারের সব কর্মীকে এক সপ্তাহ অফিসে আসতে মানা করে দিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার (১৮ নভেম্বর) বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার (২১ নভেম্বর) টুইটারের দপ্তর খুলবে বলে কর্মীদের এক বার্তায় জানিয়েছে টুইটার কর্তৃপক্ষ। তবে এর জন্য কোনও কারণ দেখায়নি তারা।
এর আগে শোনা যায়, কর্মীদের 'দীর্ঘ সময় কাজ করো, নয় চলে যাও' বলেছিলেন ইলন মাস্ক। এরপরই চাকরি ছাড়তে শুরু করেন বহু কর্মী।
তবে নতুন বার্তায় কোম্পানির নীতিমালা অনুসরণ করে গোপনীয় তথ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, গণমাধ্যম বা অন্য কারও সাথে আলোচনা না করতে বলা হয়েছে।
এ সপ্তাহে গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, কর্মীদের দীর্ঘসময় ধরে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে বলে তাদেরকে বলেছেন ইলন মাস্ক। না হলে তাদেরকে চাকরি ছেড়ে চলে যেতে হবে।
কর্মীদের কাছে এক ইমেইলে মাস্ক বলেন, ১৭ নভেম্বরের মধ্যে এ সংক্রান্ত একটি অঙ্গীকারনামায় সম্মত না হলে কর্মীদেরকে তিন মাসের বেতন ক্ষতিপূরণ হিসেবে দিয়ে বিদায় করে দেয়া হবে।
সাময়িকভাবে টুইটার দপ্তর বন্ধ করে দেয়ার ঘোষণা থেকে ধারণা করা হচ্ছে, বিপুল সংখ্যক কর্মী এতে সম্মত না হয়ে চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে সাবেক এক টুইটার কর্মী বিবিসিকে জানিয়েছে, সবকিছু ঠাণ্ডা হয়ে গেলে হয়তো দেখা যাবে আর দুই হাজার কর্মীও বাকি নেই টুইটারে।
আরেক কর্মী বলেন, দীর্ঘসময় কাজ করতে রাজি হলেও তিনি এমন বসের জন্য কাজ করতে চান না, যিনি ইমেইলে নিজের কর্মীদের হুমকি দিয়ে বেড়ান।
আরও পড়ুন: ইউক্রেনে এক কোটি মানুষ বিদ্যুৎবিছিন্ন: জেলেনস্কি
ইলন মাস্ক টুইটারের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার আগে প্রতিষ্ঠানটিতে প্রায় সাড়ে সাত হাজার কর্মী কাজ করতেন। তবে দায়িত্ব নেয়ার পরপরই প্রায় অর্ধেক কর্মীকে চাকরিচ্যুত করেন তিনি।
এদিকে, দপ্তর সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়ার মানে টুইটার স্থায়ীভাবে বন্ধ হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে কিনা জানতে চাইলে এক টুইটবার্তায় মাস্ক বলেন, 'সেরা ব্যক্তিরাই রয়ে গেছেন, সুতরাং আমি খুব একটা চিন্তিত নই'।
একাত্তর/এসজে
