কুমিল্লার তিতাসে গাছ থেকে পেয়ারা পাড়া নিয়ে চাচাতো ভাইয়ের লাঠির আঘাতে এক বৃদ্ধ নিহতের হয়েছেন।
শনিবার (১৭ ডিসেম্বর) বিকেলে উপজেলার মাজিদপুর ইউনিয়নের মাজিদপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে গত ১৫ দিনের ব্যবধানে এই উপজেলায় তিনটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটলো।
নিহত নজরুল ইসলাম (৫২) তিতাস উপজেলার মজিদপুর ইউনিয়নের মজিদপুর গ্রামে আ. লতিফের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় হালিম সৈকত জানান, নজরুল ইসলাম ও মো. মহিউদ্দিনরা সম্পর্কে চাচাতো ভাই। পাশাপাশি ঘর হওয়ায় একটি পেয়ারা গাছ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল।
শনিবার দুপুরে মহিউদ্দিন ও তার ছেলে সিয়াম গাছ থেকে পেয়ারা পাড়ে। পরে সন্ধ্যার আগে দুই পরিবারের মহিলাদের মধ্যে পেয়ারা গাছের সীমানা নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে এগিয়ে আসেন নিহত নজরুল ইসলাম ও মো. মহিউদ্দিন। পরে নজরুল ও মহিউদ্দিন একে অপরের সাথে বিতণ্ডায় লিপ্ত হলে মহিউদ্দিন ও তার স্ত্রী শাহিনা বেগম ও ছেলে সিয়াম নজরুল ইসলামকে লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করলে ঘটনাস্থলেই নজরুল মারা যান।
নজরুল ইসলাম মারা গেছেন বুঝতে পেরে মহিউদ্দিন ও তার পরিবার দ্রুত বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়।
মজিদপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম সরকার বলেন, ঘটনা শুনে পুলিশকে খবর দিয়েছি। মহিউদ্দিন ও নজরুলদের মধ্যে পেয়ারা গাছ নিয়ে ঝগড়া হয়। উভয়ের মধ্যে হাতাহাতির একপর্যায়ে নজরুলের মৃত্যু হয়।
নজরুলের স্ত্রী রাশিদা আক্তার বলেন, পার্শ্ববর্তী ঘরের মহিউদ্দিন তার স্ত্রী শাহিনা বেগম ও ছেলে সিয়াম দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেছে। তারা ক্ষিপ্ত হয়ে নজরুলকে কিল ঘুষি ও লাঠি দিয়ে আঘাত করলে তার মৃত্যু হয়।
আরও পড়ুন: দুই লাখে মিলছে মুক্তিযোদ্ধা সনদ!
তিতাস থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুধীন চন্দ্র দাস বলেন, পেয়ারা গাছ নিয়ে উভয় পরিবারের মধ্যে ঝগড়া ছিল। সন্ধ্যায় তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।
একাত্তর/আরএ
