নগরীতে মোবাইল ফোন চুরি ও ছিনতাই এখন নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে উঠছে। আর এর পেছনে রয়েছে কয়েকটি সংঘবদ্ধ একটি চক্র। এমনই এক চক্রের সদস্যকে গ্রেফতার করে গোয়েন্দারা জানিয়েছেন, প্রতিদিন গড়ে ৩০০ মোবাইল ফোন ছিনতাই করতো এক চক্রটি।
এই চক্রের প্রধান টার্গেট বাস, প্রাইভেট গাড়ি, সিএনজিচালিক অটোরিকশা আর নিরীহ পথচারী। বাস ও গাড়ির খোলা জানালা থেকে ছোঁ মেরে মোবাইল ছিনিয়ে নেয়া থেকে শুরু করে পথচারী থেকে মোবাইল ছিনতাই করে গোপন মার্কেটে বিক্রি করে দিতো চক্রটি।
শুক্রবার রাজধানীর উত্তরখান থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তিন তিনসহ চক্রের ১৬ জনকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগন পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। এ সময় তাদের কাছ থেকে ১টি নম্বর বিহীন মোটরসাইকেল, ৫০টি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মোবাইল, ৪টি চাকু, দুই জোড়া স্বর্ণের দুল এবং নগদ ২৩ হাজার ৫০০ টাকা জব্দ করা হয়।
গ্রেফতাররা হলেন- মিজান, আমিরুল ইসলাম বাবু, শরীফ হোসেন, রিদয়, রাজ, সুমন, সোহেল বাবু, রিদয়, মনিরুজ্জামান, নাজমুল, মনির, ইমরান, ফারুক, আশরাফুল ইসলাম সজিব, আরিফ ও হাসান। এ বিষয়ে রাজধানীর উত্তরখান থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পরের দিন শনিবার দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে গোয়েন্দা পুলিশের প্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ বলেন, প্রতিদিন একশ’ লোক শহরের রাস্তায় ঘোরাফেরা করে এবং গ্যাং লিডার তাদের প্রত্যেককে প্রতিদিন কমপক্ষে তিনটি মোবাইল ফোন ছিনতাইয়ের লক্ষ্য ঠিক করে দেন। সে হিসেবে শহরে প্রতিদনি গড়ে ৩০০ মোবাইল ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে।
বাস-ট্রেন বা প্রাইভেটকারে থাকা যাত্রীরা মোবাইলে কথা বলার সময় জানালা দিয়ে ছোঁ মেরে নিয়ে যায় চক্রটি। এছাড়া গাড়ির জানালা দিয়ে যাত্রীদের বা পথচারীদের ব্যাগ, স্বর্ণের চেন, ল্যাপটপও নিয়ে যায় তারা। ছিনতাইয়ের পর নামমাত্র দামে মোবাইলসহ বিভিন্ন পণ্য গ্যাং লিডারের কাছে বিক্রি করে তারা। এরপর তারা নির্ধারিত দোকানে সেসব বিক্রি করে।
ডিবি প্রধান জানান, এসব দোকানি তুলনামূলক কমদামী মোবাইল ক্ষেত্রে খুচরা বাজারে বিক্রি করলেও দামী মোবাইলের যন্ত্রাংশ খুলে বিক্রি করেন। অনেক ক্ষেত্রে দামী মোবাইলের ফোনের আইএমইআই নম্বর পরিবর্তন করে বিক্রি, আবার কখনো দেশের বাইরেও পাচার করে দেন।
তিনি বলেন, উত্তরখানে বিসমিল্লাহ মোবাইল সার্ভিসিং নামে একটি দোকানে অভিযান চালিয়ে ছোঁ-মারা পার্টির দল নেতা ও চোরাইমাল ক্রয়-বিক্রয়কারীসহ চক্রের ১৬ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। চক্রটির নেতৃত্বে মহাখালী থেকে টঙ্গী বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত প্রায় ১৫-১৬ টি স্পটে ছিনতাই কার্যক্রম চলতো।
চক্রের নেতা মিজান, জয়, বাবু ও শরীফের নেতৃত্বে ছিনতাইকারীরা বাস, প্রাইভেটকার ও অটোর যাত্রীদের কাছ থেকে ছোঁ-মেরে মোবাইল ফোন, ব্যাগ ও গলার চেনসহ মূল্যবান মালামাল কেড়ে নেয়। এরপর সেসব চোরাইমাল ক্রয়-বিক্রয়কারী সুমন, ফারুক ও আশরাফুল ইসলাম সজিবের মাধ্যমে বিসমিল্লাহ মোবাইল সার্ভিসিং নামেও ওই দোকানে বিক্রয় করতো।
তিনি বলেন, গ্রেফতারদের বেশিরভাগই মাদকাসক্ত। মাদক কেনার টাকা জোগাড় করতেই তারা ছিনতাই করে। কখনো কখনো দলনেতা তথা মহাজনরাই তাদেরকে মাদক সরবরাহ করে। যাতে তাদেরকে দিয়ে ছিনতাই কার্যক্রম চালিয়ে নেওয়া যায়। চক্রের সদস্যরা গ্রেফতার হলে তাদের জামিন করানো এবং পরিবারকে অর্থ সহায়তাও করে থাকে এই গ্যাং লিডাররা।
ডিবি প্রধান বলেন, ছিনতাইকারীদের গ্রেফতার করলে জামিনে বের হয়ে আবার এ কাজে জড়িয়ে পড়ে। এজন্য তাদের শাস্তির পাশাপাশি রিহ্যাব সেন্টারে নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন। আমাদেরও অন্ধকার জায়গা এড়িয়ে চলা কিংবা গাড়িতে চলাচলের সময় জানালার পাশে ফোনে কথা বলার ক্ষেত্রে সতর্ক হওয়া উচিৎ।
একাত্তর/এআর
