নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে মাদক সেবনে বাধা দেয়ায় কলেজ পড়ুয়া এক শিক্ষার্থীর মুরগীর খামারে আগুন দিয়ে খামারসহ সেখানে থাকা দুই হাজার মুরগীর বাচ্চা পুড়িয়ে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা।
বৃহস্পতিবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে উপজেলার সদর ইউনিয়নের দক্ষিণবাগ এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর অভিযোগ করতে গেলে থানা পুলিশের সহায়তা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ ভুক্তভোগী পরিবারের।
মুরগীর খামারের মালিক শান্ত সরকার জানান, তিনি সরকারী মুড়াপাড়া কলেজের দ্বাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থী। বাবা পরিত্যাগ করায় শান্তসহ তার মা দক্ষিনবাগ এলাকায় একটি নির্জন স্থানে ৪ শতাংশ জমিতে বসবাস করে আসছিলেন। এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে সেখানে সেমিপাকা টিনের দোচালা ঘরে পোল্ট্রি ফার্ম গড়ে তোলেন শান্ত। খামারের আয় থেকে তিনি তার লেখাপড়াসহ মায়ের ভরণপোষণ করতেন।
শান্ত আরও জানান, দীর্ঘদিন ধরে তাদের বসত ঘরের পাশে একটি ছোট ঘরে স্থানীয় রমন সরকার, সাইফুল ও শাহীন নিষেধ করা সত্ত্বেও প্রতিনিয়ত মাদক সেবন করে আসছেন। মাদক সেবনে বাধা দেয়ায় বিভিন্নভাবে তারা শান্ত ও তার মাকে হুমকি দেয়। এদিকে গত বুধবার মাদক সেবনের ঘরটি শান্ত বন্ধ করে দেয়ায় ক্ষিপ্ত হন ওই তারা। এর জেরে বৃহস্পতিবার রাতে তারা মুরগীর খামারে আগুন ধরিয়ে দেয় বলে অভিযোগ করেন শান্ত।
স্থানীয়রা জানান, খামারে আগুন দেখে শান্ত ও তার মা চিৎকার করলে আশেপাশের লোকজন এসে চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ততক্ষণে আগুনে পুড়ে খামারে থাকা দুই হাজার মুরগী পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এতে কমপক্ষে ছয় লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি খামার মালিকের।
এদিকে, থানায় লিখিতভাবে অভিযোগ দায়ের করলেও পুলিশ কোন সহায়তা করছে না বলে অভিযোগ করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত খামার মালিক শান্ত ও তার পরিবারের লোকজন। উল্টো আসামিদের পক্ষ নিয়ে তাদেরকে পুলিশ হয়রানি করছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
আরও পড়ুন: অধ্যক্ষকে লাঞ্ছনার অভিযোগে শিক্ষার্থীদের টোলপ্লাজা অবরোধ
তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে রূপগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) আতাউর রহমান জানান, অভিযোগের তদন্ত চলছে। তদন্ত পরবর্তী ঘটনার সত্যতা পেলে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।
একাত্তর/জো
