নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী মানবাধিকার কর্মী অ্যালেস বিলিয়াৎস্কিকে তার জন্মভূমি বেলারুশের একটি আদালত ১০ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেছে। বিক্ষোভে অর্থায়নের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে তাকে এই সাজা দেয়া হয়।
শুক্রবার (৩ মার্চ) মিনস্কের একটি আদালতে এই রায় ঘোষণা করা হয়। খবর: রয়টার্স।
৬০ বছর বয়সী বিলিয়াৎস্কি মানবাধিকার ও গণতন্ত্রের প্রচারে তার কাজের জন্য গত অক্টোবরে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন এমন একটি দেশে, যেটি রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ মিত্র। দেশটির প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কো প্রায় ৩০ বছর ধরে লৌহহস্তে বেলারুশ শাসন করে আসছেন।
২০২১ সালে গ্রেপ্তার হওয়া বিলিয়াৎস্কি এবং আরও তিনজন আসামির বিরুদ্ধে বিক্ষোভে অর্থায়ন এবং অর্থ পাচারের অভিযোগ আনা হয়েছিল। বেলারুশিয়ান রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থা বেল্টা নিশ্চিত করেছে যে আদালত বিলিয়াৎস্কির জন্য এক দশকের জেলসহ সব আসামিদের দীর্ঘ কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছে।
তবে তিনি তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে এগুলোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিহিত করেছেন।
নির্বাসিত বেলারুশিয়ান বিরোধী নেতা সভিয়াতলানা সিখানউসকায়া বলেছেন, বিলিয়াৎস্কি এবং অন্য তিনজন কর্মীকে অন্যায়ভাবে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। আদালতের রায়কে ‘ভয়াবহ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন তিনি।
এক টুইটবার্তায় তিনি বলেন, ‘এই লজ্জাজনক অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করতে এবং তাদের মুক্ত করতে আমাদের অবশ্যই সবকিছু করতে হবে’।
দোষী সাব্যস্ত অন্য তিন ব্যক্তি হলেন ভ্যালেন্টিন স্টেফানোভিচ, ভ্লাদিমির ল্যাবকোভিচ এবং দিমিত্রি সলোভিভ। তাদেরকে যথাক্রমে ৯, আট ও সাত বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: মিয়ানমার সেনাবাহিনী ‘স্থায়ী মানবাধিকার সংকট’ সৃষ্টি করেছে: জাতিসংঘ
এদিকে, এই রায়কে ‘ভুয়া’ এবং ‘বেলারুশে গণতন্ত্র ও মানবাধিকারকে দমন করার চেষ্টা’ বলে অভিহিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। আসামিদের তাৎক্ষণিক মুক্তি দেয়ার আহবান জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন।
এই রায়ের নিন্দা জানিয়েছে জার্মানি ও নরওয়েসহ ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিভিন্ন দেশও।
একাত্তর/এসজে
