কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) সদ্যবিলুপ্ত ছাত্রলীগ কমিটির তিন নেতাকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। হামলার প্রতিবাদ ও বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ।
মঙ্গলবার (৭ মার্চ) দুপুর দুইটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন পাকিস্তানি মসজিদের পাশে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
এরপর বুধবার (৮ মার্চ) বিকেল সোয়া ৫টা থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কোটবাড়ি বিশ্বরোড ও বেলতলি এলাকায় ঘণ্টাব্যাপী অবরোধ চলে। সড়ক অবরোধের কারণে প্রায় পাঁচ কিলোমিটারের বেশি জুড়ে রাস্তার দুই পাশে যানজটের সৃষ্টি হয়।
খবর পেয়ে জেলা পুলিশ সুপার আব্দুল মান্নান বিপিএম (বার) ও ওসিসহ হাইওয়ে পুলিশের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছাত্র নেতৃবৃন্দদের সাথে কথা বলে আশ্বাস প্রদান করলে তারা অবরোধ তুলে নিয়ে ক্যাম্পাসে ফেরেন।
এরপর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বিচারের দাবীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নেন।
জানা গেছে, হামলার শিকার তিন ছাত্রলীগ নেতা হলেন কুবির দত্ত হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এনায়েত উল্লাহ, সহ-সভাপতি সাইদুল ইসলাম রোহান ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সালমান চৌধুরী।
অভিযোগ উঠেছে, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্তির পর একটি পক্ষের কর্মীরা (রেজা-ইএলাহীপন্থি) সদ্য বহিষ্কৃত ছাত্রলীগ নেতা এনায়েত উল্লাহ ও সালমান চৌধুরী এবং রোহানকে মারধর করেন।
হামলার শিকার ছাত্রলীগ নেতা সালমান চৌধুরী বলেন, সবেমাত্র আমি আল আমিন ভাইয়ের দোকানের সামনে আসছি তখন আমাকে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের সেক্রেটারি বিপ্লব ডাক দিয়ে বলে তুই বহিষ্কৃত তুই ক্যাম্পাসে কী? তখন অর্থনীতি অষ্টম ব্যাচের কাওসার আমাকে ঘুষি মারে এবং আল আমিন ভাইয়ের দোকান থেকে লাঠি নিয়ে আমার গায়ে, হাতে ও পায়ে আঘাত করে। এরপর আরেকজন আমাকে ধাক্কা দিয়ে সিএনজিতে করে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে এনায়েত ভাইকে মাথায় আঘাত করার সময় আমার হাতে লেগে যায়।
এ বিষয়ে বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর (ভারপ্রাপ্ত) কাজী ওমর সিদ্দিকী বলেন, আমরা জানার সাথে সাথে এখানে এসেছি এবং দ্রুত পুলিশ প্রশাসনকে জানিয়েছি। এখানে এনায়েতকে যারা মেরেছে তারা কেউই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র না।
দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেবাশীষ চৌধুরী বলেন, আমরা ঘটনাস্থলে এসেছি এবং ঘটনা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছি। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
আরও পড়ুন: ড. ইউনুস নিয়ে বিবৃতি দিলেন ৪০ বিশ্বনেতা
এর আগে গত ৩০ জানুয়ারি রাতে রেজা-ইএলাহী সমর্থিত নেতাকর্মীরা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলে উঠতে গেলে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাদের বাধা দেন। পরে এক সহকারী প্রক্টরের সঙ্গে বাগবিতণ্ডা হলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মঙ্গলবার এনায়েত উল্লাহ ও সালাম চৌধুরীকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িক বহিষ্কার করে।
ছাত্রলীগ নেতাদের ওপর হামলার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের আরেকটি পক্ষ (ইলিয়াস হোসেন সবুজপন্থি) বিক্ষুব্ধ হয়ে ক্যাম্পাসসংলগ্ন একটি গ্যারেজ ও দোকান ভাঙচুর করেন। ইলিয়াসপন্থিরা হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি করেন।
একাত্তর/এসজে
