এবারও রোজায় অস্বাভাবিকহারে বেড়েছে খেজুরের দাম। গেলো এক মাসে মান ভেদে প্রতি কেজি খেজুরের দাম বেড়েছে কেজিতে ৫০০ টাকা পর্যন্ত। ব্যবসায়ীরা বলছেন, ডলারের দাম এবং আমদানি শুল্ক বাড়ার কারণেই খেজুরের দাম বেড়েছে।
দেশে এখন প্রতিদিন আঙুর-আপেল-কমলা আর মাল্টার চাহিদা ১৭ লাখ কেজি। যার মধ্যে শুধু খেজুরের চাহিদাই এক লাখ ৩৭ হাজার কেজি। তবে, সারা বছরের তুলনায় রোজায় খেজুরের চাহিদা বেড়ে যায় অন্তত সাত গুণ। এই চাহিদার খেজুর আসে ৪০ দেশ থেকে। সারা বছর দেশে খেজুরের চাহিদা প্রায় ৫০ হাজার টন। শুধু রোজার মাসেই বিক্রি হয় প্রায় ২৫ হাজার টন।

রোজায় খেজুরের চাহিদা বেশি থাকে বলে প্রতি বছর দাম বাড়লেও এবার দামে বেড়েছে অস্বাভাবিক হারে। রাজধানীর বাদামতলীতে এক কেজি মিশরের মেডজল খেজুর বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ২৫০ টাকায়। এটিই খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ৪০০ থেকে দেড় হাজার টাকায়।
মাস খানেকের ব্যবধানে মেডজুল খেজুরের দাম বেড়েছে কেজিতে অন্তত ১০০ টাকা। ইরানি মরিয়ম খেজুর এখন বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ১০০ থেকে এক হাজার ৩০০ টাকায়। এছাড়া দাবাস, ফরিদা ও জিহাদি খেজুরেরও দাম বেড়েছে কেজিতে এক থেকে দেড়শ টাকা।
আমদানিকারকরা বলছেন, ডলারের দাম বাড়ার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ২০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক, ২৫ শতাংশ কাস্টমস ডিউটি, ১৫ শতাংশ ভ্যাট, ৫ শতাংশ অগ্রিম আয়কর আর চার শতাংশ অ্যাডভান্স ট্রেড ভ্যাট। এ কারণেই বেড়েছে খেজুরসহ সব ধরনের ফলের দাম। তবে ভোক্তাদের জন্য একটু হলেও স্বস্তির খবর হলো- গেলো দুই দিনে নতুন করে আর বাড়েনি খেজুরের দাম।

এদিকে, সাম্প্রতিক অভিযানে খেজুর আমদানি থেকে শুরু করে পাইকারি বাজার ও কমিশন এজেন্টদের ব্যাপক অনিয়ম ভ্রাম্যমাণ আদালতের পর্যবেক্ষণে উঠে আসে। দেখা গেছে, জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত বাংলাদেশে ৪০ হাজার ২৪ মেট্রিক টন খেজুর আমদানি হয়েছে। এগুলোর গড় মূল্য কেজিতে ৮৯ টাকা ৩৬ পয়সা।
আরও পড়ুন: চলতি মাসেই পদ্মা সেতুতে ট্রেনের পরীক্ষামূলক চলাচল
অথচ পাইকারি বাজারে বিভিন্ন জাতের খেজুর চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। এরমধ্যে আজওয়া ৭৫০-১০০০ টাকা, মাবরুম ১২০০-১৩০০ টাকা, মরিয়ম ৫০০-৮০০ টাকা, দাবাস ৪০০-৬০০ টাকা, জাহিদি ২০০-২৫০ টাকা, মেজডুল খেজুর ১২০০-১৩০০ টাকা, আলজেরিয়া খেজুর ২৫০-৪০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আমদানি তথ্য ও বর্তমান বাজার দরে বিস্তর পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়।
একাত্তর/এসি
