সৌদি আরবের আকাবা শারে ওমরাহ যাত্রীদের বাস দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ২৪ জন। তাদের মধ্যে রয়েছেন ১৩ বাংলাদেশি। ওই সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন ২৩ জন। তাদের মধ্যে ১৭ বাংলাদেশিকে শনাক্ত করা হয়েছে।।
সোমবার (২৭ মার্চ) সৌদি আরবের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে আসির প্রদেশ ও আভা শহরের সংযোগকারী সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। সূত্র জানায়, ব্রেক ফেল করে সেতুর সঙ্গে ধাক্কা লেগে বাসটি উল্টে আগুন ধরে যায়। ফলে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে।
মঙ্গলবার (২৮ মার্চ) রাতে নিহত ১৩ বাংলাদেশির পরিচয় জানায় সৌদিস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস।

তারা হলেন-
১) শহিদুল ইসলাম, পিতা: মো. শরিয়ত উল্লাহ, সেনবাগ, নোয়াখালী।
২) মামুন মিয়া, পিতা: আব্দুল আওয়াল, মুরাদনগর, কুমিল্লা।
৩) মোহাম্মদ হেলাল, নোয়াখালী।
৪) সবুজ হোসাইন, লক্ষ্মীপুর।
৫) রাসেল মোল্লা, মুরাদনগর কুমিল্লা।
৬) মো. আসিফ, মহেশখালী কক্সবাজার।
৭) মো. ইমাম হোসাইন রনি, পিতা: আব্দুল লতিফ, টঙ্গী, গাজীপুর।
৮) রুক মিয়া, পিতা: কালু মিয়া, চাঁদপুর।
৯) সিফাত উল্লাহ, মহেশখালী, কক্সবাজার।
১০) গিয়াস হামিদ, দেবীদ্দার, কুমিল্লা।
১১) মোহাম্মদ নাজমুল, পিতা: কাওসার মিয়া, কোতোয়ালি যশোর।
১২) রনি, পিতা: ইস্কান্দার, যশোর।
১৩) মোহাম্মদ হোসেন, কক্সবাজার।

অপরদিকে বুধবার (২৯ মার্চ) ১৭ আহত বাংলাদেশির পরিচয় নিশ্চিত হতে পেরেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
সেই ১৭ জন হলেন- চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের আবুল বাশারের ছেলে সালাহউদ্দিন, ভোলার বুরহান উদ্দিন উপজেলার আল আমিন, লক্ষ্মীপুরের রায়পুরের সিরাজুল্লাহর ছেলে মিনহাজ, চাঁদপুরের কচুয়ার মো. জয়নালের ছেলে জুয়েল, মাগুরার শালিকার জাকির মোল্লার ছেলে আফ্রিদি মোল্লা (পাসপোর্ট নং- EA0231718), লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জের আবু সাইদের ছেলে মো. রিয়াজ, মো. সেলিম (পাসপোর্ট নং- A03459571), কুমিল্লার লাকসামের আইয়ুবি আলীর ছেলে দেলোয়ার হোসাইন, মুরাদনগর উপজেলার আব্দুল মালেকের ছেলে ইয়ার হোসাইন, মো. জজ মিয়ার ছেলে মো. জাহিদুল ইসলাম, নোয়াখালীর সেনবাগের আব্দুল লতিফের ছেলে মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন, মাগুরার মোহাম্মদপুরের ফজলুর রহমানের ছেলে মিজানুর রহমান ও যশোর সদরের কাজী আনোয়ার হোসাইনের ছেলে মো. মোশাররফ হোসাইন।
আরও পড়ুন: জ্যাকসন হাইটসে সড়কের নাম ‘বাংলাদেশ স্ট্রিট’
সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আল-এখবারিয়া টিভি চ্যানেল জানিয়েছে, হতাহতদের মধ্যে বিভিন্ন দেশের নাগরিক রয়েছেন। সৌদি সিভিল ডিফেন্স ও রেড ক্রিসেন্টের উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে উদ্ধার তৎপরতা চালায়।
আসির প্রদেশের ঘটনাটি ইসলামের পবিত্র শহর মক্কা ও মদিনায় নিরাপদে যাওয়ার বিষয়টিকে কার্যত চ্যালেঞ্জে ফেলে দিয়েছে। রমজানে বহু মানুষ ওমরাহ করতে মক্কায় যাচ্ছেন এবং হজের আর মাত্র কয়েক মাস বাকি, এমন সময়ে এ ঘটনা ঘটলো।
একাত্তর/আরএ
