বঙ্গবাজারের আগুনে মালিকের স্বপ্ন ছাই হওয়ায় বিমর্ষ হয়ে পড়েছে তার পোষা কুকুর। আগুনে আশ্রয় হারানো সেই কুকুরটির ভাষা বোঝা না গেলেও, তার করুণ আকুতি মন ছুঁয়েছে অনেকেরই।
এলাকার লোকজন বলছেন, অ্যানেক্সকো ভবনের ব্যবসায়ীদের অতি আপন করে নিয়েছিল লিসা নামের এই কুকুরটি।
এদিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে থাকলেও ধ্বংসাবশেষের কোনায় কোনায় আটকে থাকা আগুন নিয়ন্ত্রণে রাতভর কাজ করেছে ফায়ার সার্ভিসের ৪৮টি ইউনিট।
আগুনে নিঃস্ব হয়েছে মনিব, আশ্রয় হারিয়ে নিস্তব্ধ অবুঝ প্রাণী লিসা। বঙ্গবাজারের পাশের অ্যানেক্সকো ভবনে ছিলো লিসার বসবাস। মনিবের মত সব হারিয়ে তাই স্তব্ধ লিসা। বার বার সে চেষ্টা করেছে চেনা জায়গাটি খুঁজতে ব্যর্থ হয়ে তাই নিস্তেজ তার বসে থাকা।
স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, ‘এটা মার্কেটের ভেতরের কুকুর। ভেতরে খাবার দেয়, আদর করে -এজন্য ও বার বার ভেতরে যেতে চায়- যেখানে আগুনে সব পুড়ে গেছে। ওর মনে হয়তো কোনো একটা সন্দেহ লেগেছে যে, ওর মালিক যারা- খাবার খাওয়ায় তাদের খোঁজ নেই। ওর ভেতরে যেতে চায় মালিকের খোঁজে।’
মহসিন মিয়ার মত আগুনে স্বপ্ন পুড়েছে হাজারো ব্যবসায়ীর। শেষ মুহূর্তে তাদের প্রাণপণ চেষ্টা কিছু যদি বাঁচানো যায়।
মহসিন নামের ওই ব্যবসায়ী বলেন, বঙ্গবাজার পুরো পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। দুই-তিনটা দোকানের সব শেষ হয়ে গেছে। একটা সুতাও নিতে পারি নাই।
অপর এক ব্যবসায়ী বলেন, প্রচণ্ড ধোয়ায় আমরা আগুনের সময় কোনো মাল বের করতে পারিনি।
আরও পড়ুন: বঙ্গবাজারে এখনো পানি ছেটানো হচ্ছে
ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক রেজাউল করিম বলেন, নতুন করে আর আগুন ছড়ানোর সম্ভাবনা নেই, ধ্বংসাবশেষের ভেতর আটকে থাকা খণ্ড খণ্ড আগুন যেন ছড়াতে না পারে এখন চলছে সেই চেষ্টা।
ফায়ারসার্ভিস বলছে বাড়তি সতর্কতার জন্য এখনো ৪৮টি ইউনিট পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কাজ করে যাচ্ছে।
একাত্তর/আরএ
