ইয়েমেনের সংঘাতে সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে দুই পক্ষের প্রায় ৯০০ যুদ্ধবন্দির মুক্তি এবং বিনিময় শুরু হয়েছে। সৌদি দূত এবং হুথি বিদ্রোহীদের মধ্যে শান্তি আলোচনা তীব্র হওয়ার সাথে সাথে আস্থা নির্মাণে এটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বন্দি বিনিময় পরিচালনাকারী ইন্টারন্যাশনাল কমিটি অফ রেড ক্রস (আইসিআরসি) শুক্রবার জানিয়েছে, তাদের বিমানগুলো ইয়েমেন এবং সৌদি আরবের ছয়টি শহরের মধ্যে মুক্তিপ্রাপ্ত বন্দিদের নিয়ে যাওয়ার জন্য ব্যবহার করা হবে।
নিকট ও মধ্যপ্রাচ্যের জন্য আইসিআরসি-এর আঞ্চলিক পরিচালক ফ্যাব্রিজিও কার্বোনি বলেন, সদিচ্ছার এই কাজটির মাধ্যমে, সংঘাতের কারণে বিচ্ছিন্ন শত শত পরিবার আবার একত্রিত হচ্ছে... আমাদের গভীর আকাঙ্ক্ষা হল যে এই মুক্তি একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক সমাধানকে গতি প্রদান করবে।
যুদ্ধরত পক্ষগুলো গত মাসে ৮৮৭ বন্দিকে মুক্ত করার জন্য সুইজারল্যান্ডে আলোচনায় সম্মত হয়েছিল। আরও মুক্তির বিষয়ে আলোচনা করার জন্য মে মাসে তাদের আবার দেখা করার কথা রয়েছে। চুক্তিটি ইয়েমেনের জন্য জাতিসংঘের দূত হ্যান্স গ্রুন্ডবার্গ এবং আইসিআরসি দ্বারা তত্ত্বাবধান করা হয়।
স্টকহোম চুক্তি নামে পরিচিত জাতিসংঘের মধ্যস্থতামূলক চুক্তির অধীনে ২০২২ এবং ২০২০ সালে বন্দিদের মুক্তির জন্য একাধিক বৈঠকের মধ্যে এটি ছিল সর্বশেষ আলোচনা।
আরও পড়ুন: ‘সবচেয়ে শক্তিশালী’ মিসাইল পরীক্ষার দাবি উত্তর কোরিয়ার
ইয়েমেনের সংঘাতকে প্রায়ই সৌদি আরব এবং ইরানের মধ্যে প্রক্সি যুদ্ধ হিসাবে দেখা হয়। ২০১৪ সালে ইরান-সমর্থিত হুথিরা সানা থেকে সরকারকে উৎখাত করার পর ২০১৫ সালে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ইয়েমেনে হস্তক্ষেপ করে।
২০১৬ সালে বিচ্ছিন্ন কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনরুদ্ধার করতে গত মাসে সম্মত হয় রিয়াদ এবং তেহরান। এর ফলে ইয়েমেনের শান্তি প্রক্রিয়া অগ্রগতির মুখ দেখতে পাবে আশা করা হচ্ছে।
একাত্তর/এসজে
