সশস্ত্র মহড়া দেয়ার সময় সিরাজগঞ্জের তাড়াশের দেশীগ্রাম থেকে পূর্ব বাংলা সর্বহারা পার্টির আট সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে ২০ বছর আগে ফাঁড়ি লুটের এসএমজি, রাইফেল ও গুলিসহ বেশকিছু অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
সম্প্রতি দেশীগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল কুদ্দুস হত্যার সঙ্গে গ্রেপ্তারকৃতরা জড়িত বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শনিবার দুপুরে সিরাজগঞ্জ জেলা পুলিশ কার্যালয়ে রাজশাহী রেঞ্জের উপ মহাপুলিশ পরিদর্শক (ডিআইজি) মো. আব্দুল বাতেন সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।
আব্দুল বাতেন বলেন, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় উপজেলার ভোগলমান বাজারে শত শত মানুষের মধ্যে মুখোশপরা অস্ত্রধারীরা গুলি করে কুদ্দুস সরকারকে হত্যা করে। হত্যার পর বাজারে পূর্ব বাংলা সর্বহারা পার্টির লিফলেট বিতরণ এবং সর্বহারা পার্টি জিন্দাবাদ স্লোগান দেয়।
আটককৃতরা ওই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে ডিআইজি জানান।
তিনি বলেন, পুলিশ খবর পায় যে, শনিবার ভোর রাতে দেশীগ্রাম ইউনিয়নের দোগাড়ীয়া ঈদগাহ মাঠ এলাকায় আগ্নেয়াস্ত্রসহ একটি সন্ত্রাসী দল মহড়া দিচ্ছে। জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ও তাড়াশ থানার বিশেষ টিম তাদের অবস্থান সনাক্ত করে অভিযান শুরু করেন।
অভিযানে অস্ত্রসহ সাতজনকে ধরে ফেলা হয়। তাদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী আশ্রয় দানকারী আরেকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আটককৃতরা পূর্ব বাংলা সর্বহারা পার্টির চলনবিল শাখার সদস্য হিসেবে নিজেদের পরিচয় দেয়। তাদের কাজ থেকে ২০০২ সালের বেলকুচি উপজেলার রান্ধুনিবাড়ী পুলিশ ফাঁড়ি থেকে লুট হওয়া বেশ কয়েকটি অস্ত্র উদ্ধার করার কথা জানায় পুলিশ।
এসব অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে একটি এসএমজি, একটি থ্রি-নট থ্রি রাইফেল, একটি টি থ্রি নট থ্রি কাটা রাইফেল, ১১ রাউন্ড থ্রি নট থ্রির গুলি, একটি গুলির খোসা, দুইটি চাকু ও একটি সাউন্ড গ্রেনেড।
এছাড়া একটি অটো ভ্যান গাড়ী জব্দ করা হয়েছে।
গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন, পাবনা জেলার চাটমোহর থানার বাঙ্গালা পূর্বপাড়া গ্রামের মৃত আমির সরকারের ছেলে জহুরুল ইসলাম তুষার (২৫), দিনাজপুর জেলার ফুলবাড়ী থানার সুজাপুর বানিয়াপাড়া গ্রামের বিকাশ মহন্তের ছেলে বিশ্বনাথ মহন্ত (৩২)।
আরও পড়ুন: সোনারগাঁয়ে শুরু তিনদিনের বউ মেলা
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার সুজাদক্ষিনপাড়া গ্রামের মৃত গফুর মোল্লার ছেলে শহিদুল ইসলাম (৪০), রায়গঞ্জ থানার কৃষ্ণপুর উত্তরপাড়া গ্রামের মৃত গকুল চন্দ্র দাসের ছেলে শ্রী বলরাম চন্দ্র দাস (৩৮), তাড়াশ থানার গুরপিপুল গ্রামের মৃত শংকর চন্দ্র দাসের ছেলে উত্তম চন্দ্র দাস (৪০), টাংগরা দক্ষিনপাড়া গ্রামের মৃত জুরান উদ্দিনের ছেলে মো. রহমত আলী (৩৮), দেওঘর গ্রামের মৃত গোনেস উরাও এর ছেলে শ্রী সুনীল উরাও (৪৫)।
পাবনার কাটাখালী পূর্বপাড়া গ্রামের আমির সরকারের ছেলে মো. রহমত আলী (৪৫)।
একাত্তর/আরবি
