সাভারে রানা প্লাজা দুর্ঘটনার ১০ বছর উপলক্ষে রাজধানীর জুরাইন কবরস্থানে দায়িদের শাস্তির দাবি জানিয়েছে গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফেডারেশন, শ্রমিক নিরাপত্তা ফোরাম।
সোমবার (২৪ এপ্রিল) সকালে রানাপ্লাজা দুর্ঘটনায় নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তারা বলেন, এটা নিছক কোনো দুর্ঘটনা ছিলোনা। এটা ছিলো হত্যাকাণ্ড এবং তারা এই হত্যাকাণ্ডের বিচার নিয়ে টালবাহানা করা হচ্ছে।
এসব সংগঠনের নেতারা বলেন, রানা প্লাজা দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের জন্য পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ দেয়া হয়নি এবং এই ঘটনার যারা আহত হয়েছেন তাদের খবরও এখন কেউ নেয় না যা অত্যন্ত কষ্টদায়ক।
তারা বলেন, যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, যারা পরিবারের সদস্যদের হারিয়েছেন তাদের ক্ষতিপূরণ না দিয়ে গার্মেন্টস মালিকদের ক্ষতিপূরণ দেয়া হয়েছে।
এসময় বক্তারা শ্রম আইন সংশোধন করে আজীবন আয়ের মানদণ্ডে ক্ষতিপূরণেরও দাবি জানান।
এসময় তারা সারাকা, তাজরীন, সেজান জুস, সীমা অক্সিজেন কারখানায় হত্যাকাণ্ডের বিচারও দাবি করেন।
শ্রমিক নেতারা মনে করেন আগের ঘটনায় যথাযথ বিচার নিশ্চিত হলে রানা প্লাজায় এমন হত্যাকাণ্ড ঘটতো না।
২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল রানা প্লাজা ধসে এক হাজার ১৩৫ জন নিহত ও এক হাজার ১৬৯ জন গুরুতর আহত হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করেন। ঘটনাটি দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আলোচিত হয় বিদেশেও। আহত শ্রমিকদের অভিযোগ, দুর্ঘটনার পর প্রাথমিক ক্ষতিপূরণ দিয়েই দায় সেরেছে সরকার ও বিজেএমইএ।
রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় মোট তিনটি মামলা হয়। এর মধ্যে একটি হত্যা মামলাটি করে পুলিশ। এছাড়া ইমারত নির্মাণ আইন লঙ্ঘন করে ভবন নির্মাণের অভিযোগে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) ও ভবন নির্মাণসংক্রান্ত দুর্নীতির অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অন্য দুটি মামলা করে। তবে কোনো মামলারই বিচার শেষ হয়নি। রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলিরা জানিয়েছেন, এখনও মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ চলছে।
অভিযোগপত্রের দুই আসামি মারা যাওয়ায় তাদের মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে আসামি ৩৯ জন। তাদের মধ্যে রানা প্লাজার মালিকের ছেলে সোহেল রানা কারাগারে। এছাড়া সাত আসামি পলাতক ও বাকি ৩১ আসামি জামিনে আছেন। আবার পুলিশের প্রতিবেদন বলছে, অনেক সাক্ষীকেও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
আরও পড়ুন: চট্টগ্রামে অটোরিকশার সিলিন্ডার বিস্ফোরণ, শিশুসহ দগ্ধ পাঁচ
বিজিএমইএ এর প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ ফারুক হাসানের দাবি, রানা প্লাজার নিহত এবং আহত শ্রমিকদের পর্যাপ্ত ক্ষতিপুরণ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আহতদের দীর্ঘমেয়াদে চিকিৎসা দেয়ার পরিকল্পনা তাদের নেই।
দিনটির নির্মমতা স্মরণ করতে রানা প্লাজার পরিত্যক্ত জমির সামনে তৈরি করা হয়েছে অস্থায়ী স্মৃতি সৌধ। সেখানে ফুল দিয়ে আহত এবং নিহতদের শ্রদ্ধা জানায় বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন।
একাত্তর/এসি
