মানবাধিকার এবং শ্রম আন্দোলন কর্মীদের (অ্যাক্টিভিস্ট) জন্য বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক স্থানগুলোর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে ব্রাজিল, ভারত, কম্বোডিয়া এবং ফিলিপাইন। বুধবার যুক্তরাজ্যভিত্তিক ব্যবসা ও মানবাধিকার সংস্থান কেন্দ্রের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এমন তথ্য।
প্রতিবেদন অনুসারে, ২০২২ সালে শ্রম আন্দোলন কর্মীদের বিরুদ্ধে ৬৩টি রেকর্ডকৃত হামলার মধ্যদিয়ে ব্রাজিল সবচেয়ে বিপজ্জনক দেশের তালিকার শীর্ষে উঠে এসেছে। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ভারত, যেখানে ৫৪টি এবং তৃতীয় স্থানে থাকা মেক্সিকোতে ৪৪টি হামলা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কম্বোডিয়ায় গেলো বছর ৪০টি হামলা রেকর্ড করা হয়েছে। অন্যদিকে ফিলিপাইন এবং হন্ডুরাসে যথাক্রমে ৩২ এবং ৩১টি হামলা হয়েছে। এছাড়া বেলারুশ, পেরু, কলম্বিয়া এবং উগান্ডায় ১৭ থেকে ২৮টি হামলা হয়েছে।
বিজনেস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস রিসোর্স সেন্টার বলেছে, বিশ্বব্যাপী রেকর্ড করা ৫৫০টিরও বেশি হামলার ৭৫ শতাংশ ভূমি, জলবায়ু বা পরিবেশগত অধিকার রক্ষাকারী লোকদের সাথে যুক্ত এবং এক-পঞ্চমাংশ হামলা হয়েছে আদিবাসী কর্মীদের বিরুদ্ধে। এক্ষেত্রে খনি শিল্প সবচেয়ে বিপজ্জনক, যেখানে প্রায় ৩০ শতাংশ হামলা হয়েছে।

এসব হামলায় অপরাধীদের শনাক্ত করা কঠিন বলে মনে করে বিজনেস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস রিসোর্স সেন্টার। ২৩৫টি ঘটনা বা ৪৩ শতাংশ হামলার সাথে বহুজাতিক কোম্পানি বা তাদের সহযোগী সংস্থার সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে।
এদিকে ভারতে ২০২২ সালে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক বহুজাতিক কোম্পানি নানা ধরণের হামলার সাথে যুক্ত ছিল। কোম্পানিগুলোর মধ্যে ভারতের অন্যতম শীর্ষ ইস্পাত এবং কয়লা প্রস্তুতকারক জেএসডাব্লিউ স্টিল অন্তর্ভুক্ত। পূর্ব রাজ্য ওড়িশায় কোম্পানিটির একটি ইস্পাত কারখানা নির্মাণের পরিকল্পনার বিরুদ্ধে স্থানীয় বাসিন্দারা ২০১৮ সাল থেকে বিরোধিতা করে আসছে।
কর্মীরা বলেছেন যে, প্রকল্পটি এলাকার পরিবেশ এবং বাসিন্দাদের স্বাস্থ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ এবং সুপারি লতা চাষের মতো ঐতিহ্যবাহী শিল্পগুলোকে স্থানচ্যুত করবে।

ওড়িশায় প্রতিবাদকারী গ্রামবাসীরা "কঠোর পুলিশি দমন-পীড়নের" সম্মুখীন হয়েছে যার ফলে এক হাজারেরও বেশি বাসিন্দা এবং কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে নাম উল্লেখ করা অন্য কোম্পানিগুলো হলো, সংযুক্ত আরব আমিরাত ভিত্তিক ওটারলো বিজনেস কর্প, ফরাসি তেল কোম্পানি টোটালএনার্জিস, হন্ডুরাসভিত্তিক খনি কোম্পানি ইনভারসিওনেস লস পিনারেস এবং কম্বোডিয়াভিত্তিক গেমিং কোম্পানি নাগাওয়ার্ল্ড।
আল-জাজিরা বলছে, এসব কোম্পানির কেউই এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।

আরও পড়ুন: ইউক্রেন যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ছে জার্মানি, ক্রেমলিনের হুঁশিয়ারি
অলাভজনক সংস্থার সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার ক্রিস্টেন ডবসন বলেন, অ্যাক্টিভিস্টদের বিরুদ্ধে হামলা দেখায় যে বিশ্বব্যাপী সরকারগুলো মানবাধিকার রক্ষায় তাদের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ক্ষতিকারক ব্যবসায়িক নীতি নিয়ে কথা বলার জন্য মানুষ ক্রমাগত আক্রমণের শিকার হচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে দ্রুত এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে হবে।
একাত্তর/আরবিএস
