বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ঢল নামার প্রায় ছয় বছরের মাথায় প্রথমবারের মত মিয়ানমারের রাখাইন অঞ্চল পরিদর্শনে গেছেন রোহিঙ্গা প্রতিনিধিদের একটি দল।
তারা ঘুরে দেখার পর রাখাইনের পরিস্থিতি অনুকূল মনে হলে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন শুরু হতে পারে।
একারণেই শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে ২৭ সদস্যের প্রতিনিধিদলের এ সফরকে গুরুত্বপূর্ণ হিসাবে দেখছেন অনেকেই।
রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ২০ প্রতিনিধি নিয়ে শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে টেকনাফ-মিয়ানমার ট্রানজিট জেটি দিয়ে মংডুর উদ্দেশ্যে রওনা দেয় প্রতিনিধিদল।
বিজিবির নিরাপত্তায় ‘সেন্টমার্টিন ক্রজ’ নামে একটি স্পিড বোট তাদের নিয়ে রাখাইনে পৌঁছে।
রাখাইনে পৌঁছানোর পর সেখানকার পরিস্থিতি প্রতিনিধিদল ঘুরে দেখছেন বলে একজন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের যেখানে রোহিঙ্গাদের রাখা হবে সেই আশ্রয়কেন্দ্রগুলো পরিদর্শন করছেন তারা।
কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের সঙ্গে রয়েছেন বিভিন্ন পর্যায়ের সাত কর্মকর্তা। ২০ রোহিঙ্গা প্রতিনিধির মধ্যে রয়েছেন ১৭ জন পুরুষ ও তিনজন নারী। বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে এদের বাছাই করা হয়েছে।
মিয়ানমারে নির্যাতনের মুখে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়ে আছে। বিপুল সংখ্যক শরণার্থী বাংলাদেশের আর্থ সামাজিক অবকাঠামোয় চাপ তৈরি করেছে।
২০১৭ সালের অগাস্টে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে কয়েকটি পুলিশ পোস্ট ও একটি সেনা ঘাঁটিতে রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের হামলার পর সেখানে নতুন করে সেনা অভিযান শুরু হয়।
এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ সীমান্তে নতুন করে রোহিঙ্গাদের ঢল নামে। মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর জাতিগত নিপীড়ন চলে আসছে কয়েক দশক ধরে। বিভিন্ন সময়ে সহিংসতার মুখে সেখান থেকে পালিয়ে এসে আগে থেকেই পাঁচ লাখের বেশি মানুষ বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়ে ছিল।
কিন্তু ২০১৭ সালের পর গত ছয় বছরে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঘটেছে সবথেকে বেশি। রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের জন্য নানা দেন দরবার চললেও এতদিন কার্যত কোনও ফল আসেনি।
সম্প্রতি সিদ্ধান্ত হয় যে, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরুর পরিবেশ কতটা অনুকূল তা দেখতে রোহিঙ্গা প্রতিনিধিদের নিয়ে বাংলাদেশের কর্মকর্তারা রাখাইন সফর করবেন।
এর এক এক সপ্তাহের মধ্যে মিয়ানমারের আরেকটি প্রতিনিধিদল কক্সবাজারে এসে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।
সব ঠিকঠাক থাকলে চলতি মাসেই রোহিঙ্গাদের প্রথম দলের নিজ দেশে ফেরা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
একাত্তর/আরবি
