বিশ্বের সব হায়েনাকে পরাজিত করেছেন প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান। এমন মন্তব্য রাজনীতি বিশ্লেষক ডাক্তার আমিরা আবু ফতুহের।
মিডল ইস্ট মনিটরে এক নিবন্ধে তিনি বলেন, পশ্চিমা অধিকাংশ রাজনীতিক এবং গণমাধ্যম এরদোয়ানকে উৎখাতে এক হয়েছিলো। কিন্তু তুর্কি জনগণ তাদের হতাশ করেছেন।
সাধারণত মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এমনটা হয়। সারাবিশ্বের মানুষ তাকিয়ে থাকে। রাত জেগে অপেক্ষা করে, কে হচ্ছেন পরর্বতী প্রেসিডেন্ট তা জানতে।
বুঝতে চান তার আমলে কেমন চলবে বৈশ্বিক পরিস্থিতি। গণমাধ্যমও ব্যস্ত থাকে সে খবর পৌঁছে দিতে। প্রথমবার তুরস্কের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এমনটা ঘোটলো।
মাসজুড়ে পুরোবিশ্ব ব্যস্ত ছিলো দেশটির নির্বাচন নিয়ে। এ নির্বাচন শুধু তুরস্কে সীমাবদ্ধ ছিলো না। ফলাফল পাল্টে দিতে পারতো পুরো আঞ্চলের চিত্র।
যার কারণে অধিকাংশ পশ্চিমা রাষ্ট্র তুরস্কের নির্বাচনে যুক্ত হয়। বড় ভূমিকা রাখে ভোটযুদ্ধে। সহযোগিতা করে প্রবাসী তুর্কিদের ভোট দেয়ায়।
পশ্চিমা প্রভাবশালী গণমাধ্যমগুলো তুর্কি বিরোধীদলের পক্ষ নেয়। বিসর্জন দেয় পেশাদারিত্ব, নিরপেক্ষতা। পরিণত হয় প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী কামাল কিলিচদারওলুর মিডিয়া টিমে।
তারা কিলিচদারওলুকে সর্বশক্তি দিয়ে সমর্থন করে। জঘন্য-নিষ্ঠুরভাবে আক্রমণ করে প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানকে।
পশ্চিমা গণমাধ্যম এরদোয়ানকে অত্যাচারী একনায়ক আখ্যা দেয়। অবশ্যই তাকে হটাতে হবে বলে প্রচারণা চালায়। ইকনোমিস্ট শিরোনাম করে, এরদোয়ানকে অবশ্যই যেতে হবে।
বিবিসি জানায়, এরদোয়ান জয়ী হলে তুরস্ক ইসলামপন্থী এবং অন্ধকারে পতিত হবে। জার্মানির ডের স্পিগেল সিংহাসনে বসা এরদোয়ানের ছবির উপরে ভাঙা অর্ধেক চাঁদের ছবি প্রকাশ করে।
ওয়াশিংটন পোস্ট, নিউইয়র্ক টাইমস, ফিনান্সিয়াল টাইমস, লে-ফিগারো, টেলিগ্রাফ, সানডে মেইল, সিএএনসহ অধিকাংশ গণমাধ্যম মিথ্যা এবং অপেশাদারিত্বের কুয়ায় পতিত হয়।
তাদের প্রত্যেকের আলাদা আদর্শ থাকলেও এরদোয়ানকে উৎখাতে এক জোট হয়েছিলো।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের অর্থায়নে পরিচালিত ২০১৬ সালের ব্যর্থ অভ্যুত্থানের পর ভোটের মাধ্যমে এরদোয়ানকে হারানোর এটাই ছিলো তাদের শেষ সুযোগ।
আরও পড়ুন: ২০ মিনিটের মধ্যে তিন ট্রেনের দুই সংঘর্ষ!
মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনও তার নির্বাচনী প্রচারণায় তুরস্কের বিরোধীদলকে শক্তিশালী করার এবং এরদোয়ানকে উৎখাতের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
অনেক পশ্চিমা রাজনীতিক বলেছিলেন, এ নির্বাচনে এরদোয়ানের অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটবে। কিন্তু তুর্কি জনগণ তাদের হতাশ করেছেন।
২০২৮ সাল পর্যন্ত এরদোয়ানকে প্রেসিডেন্ট হিসাবে নির্বাচিত করেছেন তারা। এখন এরদোয়ানের নতুন মেয়াদে বিরোধীদের পরিকল্পনা কি, কি ষড়যন্ত্র করতে পারে তারা? থাকছে পরের পর্বে।
একাত্তর/আরবিএস
