পারস্য উপসাগরে চলমান যুদ্ধ নিরসনে উত্তেজন প্রশমনের লক্ষ্যে পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রস্তাব ইরানের কাছে পৌঁছে দিয়েছে। বুধবার রয়টার্সকে দেয়া সাক্ষাৎকারে ইরানের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আলোচনার সম্ভাব্য ভেন্যু হিসেবে পাকিস্তান অথবা তুরস্কের নাম বিবেচনা করা হচ্ছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা জানান, জনসমক্ষে তেহরান আলোচনার বিষয়টি অস্বীকার করলেও পর্দার আড়ালে তারা কূটনৈতিক প্রস্তাবগুলো গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে। যদিও ইরান সরকার বরাবরই বলে আসছে, ট্রাম্প প্রশাসনের সাথে তারা কোনো চুক্তিতে যাবে না।

অন্যদিকে, মার্কিন প্রস্তাবটি নিয়ে বিস্তারিত কিছু জানা না গেলেও রয়টার্স জানিয়েছে, এটি একটি ১৫-দফার ফ্রেমওয়ার্ক হতে পারে। এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমেছে এবং শেয়ার বাজার কিছুটা স্থিতিশীল হয়েছে।
ইসরাইলি মন্ত্রিসভার সূত্রমতে, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নিরাপত্তা পরিষদকে এই প্রস্তাব সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছে। প্রস্তাবের মূল শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে- ইরানের উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ সরিয়ে ফেলা, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করা, ব্যালিস্টিক মিসাইল কর্মসূচি সীমিত করা এবং আঞ্চলিক মিত্রদের অর্থায়ন বন্ধ করা। তবে ইসরাইলি প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা এই প্রস্তাব নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। তারা মনে করছেন, আলোচনার টেবিলে যুক্তরাষ্ট্র হয়তো ইরানকে কিছু ছাড় দিতে পারে, যা ইসরাইলের নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ হতে পারে।

এদিকে, কূটনীতির সমান্তরালে সামরিক প্রস্তুতিও থেমে নেই। পেন্টাগন পারস্য উপসাগরে হাজার হাজার প্যারাট্রুপার পাঠানোর পরিকল্পনা করছে, যাতে ট্রাম্পের সামনে স্থল অভিযানের বিকল্প পথ খোলা থাকে। ইতিমধেই মার্কিন মেরিন সেনাদের একটি বিশাল দল ওই অঞ্চলের পথে রয়েছে।
তুরস্কের ক্ষমতাসীন দলের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা হারুন আরমাগান রয়টার্সকে নিশ্চিত করেছেন, আঙ্কারা ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদানে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে। তবে ইরানের সামরিক কমান্ডের মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাকারি ট্রাম্পের আলোচনার প্রস্তাবকে উপহাস করে বলেছেন, আমাদের মতো মানুষ আপনাদের মতো মানুষের সাথে কখনোই এক হতে পারে না। ট্রাম্পের সাথে কোনো চুক্তি হবে না- এখনও না, কখনোই না।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাইও জানিয়েছেন, আমেরিকার কূটনীতি বিশ্বাসযোগ্য নয় এবং তাদের সামরিক বাহিনী এখন শুধু সার্বভৌমত্ব রক্ষায় মনোযোগী।

যুদ্ধের ময়দানে অবশ্য কোনো পরিবর্তনের আভাস নেই। ইসরাইলি সেনাবাহিনী ইরানজুড়ে তাদের বিমান হামলা অব্যাহত রেখেছে, যার মধ্যে ইরানের জাহাজ ও সাবমেরিন নির্মাণ কেন্দ্রগুলোও রয়েছে। অন্যদিকে, ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী তেল আবিব, কিরিয়াত শমোনা এবং কুয়েত, জর্ডান ও বাহরাইনের মার্কিন ঘাঁটিতে নতুন করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের একটি জ্বালানি ট্যাঙ্কারে ড্রোন হামলায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
গত ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া মার্কিন 'অপারেশন এপিক ফিউরি'র প্রতিক্রিয়ায় ইরান কৌশলগত হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে রেখেছে। যদিও ইরান দাবি করছে যে, সমন্বয়ের মাধ্যমে 'অহিংস' জাহাজগুলো যাতায়াত করতে পারবে, কিন্তু বাস্তবে ইরানের নিজস্ব তেলবাহী জাহাজ এবং হাতেগোনা কয়েকটি বন্ধু রাষ্ট্রের জাহাজ ছাড়া আর কিছুই সেখান দিয়ে পার হতে পারছে না।
