এখনো বিক্ষোভে উত্তাল ফ্রান্স। শুক্রবার রাতে অন্তত ৪৭১ বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণে দেশজুড়ে ৪৫ হাজার পুলিশ ও সাঁজোয়া যান নামিয়েছে ফ্রান্স।
এদিকে, বিক্ষোভ থামাতে দেশটির অভিভাবকদের আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। পরিস্থিতি মোকাবেলার এক জরুরি বৈঠকও ডেকেছেন তিনি।
চতুর্থ দিনে গড়ালো ফ্রান্সের বিক্ষোভ। শুক্রবার রাতেও প্যারিসে বহু দোকানপাট লুট হয়েছে। বহু গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ছে বিভিন্ন শহরেও।

মার্সেই, লিঁও, তুলুজ, লিলসহ পুরো ফ্রান্সজুড়েই শুক্রবার রাতে অস্থিরতা দেখা গেছে। অস্থিরতা দেখা গেছে রাজধানী প্যারিসেও। শুধু শুক্রবার রাতেই গ্রেপ্তার হয়েছে ৪৭১ জন।
এ নিয়ে অস্থিরতা শুরুর পর চার রাতে আটকের সংখ্যা এক হাজার ১০০ ছাড়িয়েছে। শুক্রবার আটকদের মধ্যে দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মার্সেইয়ের ৮০ জনও আছে।
দাঙ্গাবাজরা মার্সেইয়ের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত একটি বন্দুকের দোকান থেকে বেশকিছু শিকারের বন্দুক লুট করলেও কোনো গুলি নেয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
উত্তরাঞ্চলীয় খোঁবে শহরে একটি হোটেলে আগুন দেওয়ায় সেখানকার অতিথিদের রাস্তায় রাত কাটাতে হয়। বিভিন্ন শহরের রাস্তায় টায়ারে আগুন ধরিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়।
ফ্রান্সের তৃতীয় বৃহত্তম শহর লিঁওতে অস্থিরতা দমনে একটি হেলিকপ্টার ও সাঁজোয়া যানসহ পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। রাত ৯টা থেকে বাস ও ট্রাম চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।

দাঙ্গা মোকাবেলায় এরই মধ্যে ফ্রান্সজুড়ে ৪৫ হাজারের বেশি পুলিশ ও সাঁজোয়া যান মোতায়েন করা হয়েছে। শুক্রবার এক রাতে আটক করা হয়েছে ৪৭১ জনকে।
বিক্ষোভ থামাতে অভিভাবকদের আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহবান জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ। তিনি বলেন, যারা গ্রেপ্তার হয়েছে, এক তৃতীয়াংশই একেবারেই তরুণ।
অনেকেই এখনও প্রাপ্তবয়স্ক হয়নি। তাদের ঘরে রাখার দায়িত্ব অভিভাবকদের। সবার শান্তির জন্য বাবা-মায়েদের ঠিকমতো দায়িত্ব পালন করাটা জরুরি।
ম্যাক্রোঁ আরও বলেন, কাজেই সব বাবা-মায়েদের প্রতি আমার আহ্বান সন্তানের প্রতি নিজের দায়িত্ব পালন করুন। এটা রাষ্ট্র করতে পারবে না।
বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় রাত ন’টার পর থেকেই প্যারিস এবং বৃহত্তর অঞ্চলে সব বাস এবং ট্রাম চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। প্যারিসের উপশহরে জারি করা হয় কারফিউ।
এর মধ্যেই পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনায় শুক্রবার জরুরি বৈঠক ডেকেছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট। জানান, ডান ও কট্টর ডানপন্থীরা জরুরি অবস্থা জারির জন্য সরকারের ওপর চাপ দিচ্ছে।

শেষ পর্যন্ত এই পথেই যেতে পারে সরকার, এমন ধারণা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের। জরুরি অবস্থা ছাড়া বর্তমান পরিস্থিতি সামাল দেয়া ম্যাক্রোঁর জন্য কঠিন হয়ে পড়বে।
ফ্রান্সে গত চার দিন ধরে তীব্র বিক্ষোভ চলছে। পুলিশের ওপর হামলা, সরকারি সম্পত্তি ধ্বংস ও নাশকতার অভিযোগে এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার করা হয়েছে প্রায় এক হাজার বিক্ষোভকারীকে।
আটক বিক্ষোভকারীদের প্রায় সবাই বয়সে তরুণ। এছাড়া বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষ আহত হয়েছেন কমপক্ষে ২৫০ জন পুলিশ সদস্য।

প্যারিসের উপকণ্ঠে পুলিশের গুলিতে এক তরুণ নিহত হওয়ার পর ফ্রান্সে এই দাঙ্গা শুরু হয়। এই ঘটনা ফ্রান্সে বর্ণবাদ ও সংখ্যালঘুদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ নিয়ে ক্ষোভ উস্কে দিয়েছে।
আলজেরীয় এবং মরোক্কান বংশোদ্ভূত ১৭ বছর বয়সী তরুণ নাহেল এম গত মঙ্গলবার গাড়ি চালিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশের গুলিতে নিহত হন।
আরও পড়ুন: আইএমএফ থেকে ৩০০ কোটি ডলার ঋণ পাচ্ছে পাকিস্তান
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁর নেতৃত্বকে ২০১৮ সালে শুরু হওয়া ইয়োলো ভেস্ট আন্দোলনের পর এই সহিংসতাই সবচেয়ে ভয়াবহ সংকটে ফেলেছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
একাত্তর/আরএ
