বাংলাদেশ বিমানের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে করা মামলায় বিমানের ২৬ কর্মচারীসহ ৩০ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট জমা দিয়েছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। আট মাস তদন্ত শেষে এ ঘটনায় সরাসরি জড়িত থাকার প্রমাণ পেয়ে অভিযোগপত্র দাখিল করলো সংস্থাটি।
বুধবার গোয়েন্দা প্রধান হারুন অর রশিদ সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, গত ২২ জুন ডিবি পুলিশের পরিদর্শক মো. আলমগীর হোসেন পাটোয়ারী আদালতে এ চার্জশিট দাখিল করেন। পরে দুই জুলাই সিএমএম আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখায় এটি জমা হয়।
চার্জশিটভুক্ত আসামিদের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ২৬ কর্মচারী রয়েছেন। উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন- এমটি অপারেটর জাহাঙ্গীর আলম, মো. মাসুদ, মো. মাহবুব আলী, এমএলএসএস মো. জাহিদ হাসান, অফিস সহায়ক আওলাদ হোসেন, এমটি অপারেটর এনামুল হক, এমএলএসএস হারুন অর রশিদ, এমটি অপারেটর মাহফুজুল আলম, এমএলএসএস সমাজু ওরফে সোবাহান, এমএলএসএস জাকির হোসেন ও হেলপার জাবেদ হোসেন।
হারুন অর রশিদ জানায়, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের জিএম অ্যাডমিনের অফিস কক্ষে বসে গত বছরের ১৯ অক্টোবর নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের প্রথম পেপার প্রিন্ট করা হয়। সেখান থেকেই বিমানের এমডির পিওন মোবাইলে প্রশ্নপত্রের ছবি ধারণ করে নেন। ২০ অক্টোবর প্রশ্নপত্র থেকে শুধু বিমান বাংলাদেশের লোগো মুছে এমসিকিউ প্রশ্নগুলোর সঠিক উত্তরে টিক চিহ্ন দিয়ে দুই মোটর ট্রান্সপোর্ট অপারেটরকে সরবরাহ করা হয়। পরে তারা উত্তর সম্বলিত প্রশ্নপত্র বিভিন্ন জনের কাছে লাখ লাখ টাকার বিনিময়ে বিক্রি করে। বিমানের এমডির অফিস সহকারী জাহিদ হোসেনও এই ঘটনার সাথে সরাসরি জড়িত ছিলো।
তিনি জানান, এ মামলায় গ্রেপ্তার ১১ জন আসামির মধ্যে ১০ জন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে প্রশ্ন ফাঁসকাণ্ডে নিজেদের ও অন্যদের জড়িত থাকার বিষয়ে বিস্তারিত আদালতকে জানিয়েছে। তদন্তে বিমানের ২৬ জনের জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
এই গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানান, শুধু এইবারই প্রথম নয়, এর আগেও টাকার বিনিরময়ে বিমান বাংলাদেশের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের তথ্য প্রমাণ পাওয়া গেছে।
২০২২ সালের ২১ অক্টোবর বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স লিমিটেডের ১২টি পদে নিয়োগ পরীক্ষার তারিখ ধার্য ছিল। তবে এ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ওঠে। পরে পরীক্ষা শুরুর এক ঘণ্টা আগে তা স্থগিত করা হয়।
আরও পড়ুন: মশার লার্ভা খুঁজতে এবার ড্রোন নামাল উত্তর সিটি
পরীক্ষা স্থগিতের ঘোষণা দেওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে পরীক্ষাকেন্দ্রের সামনে বিক্ষোভ শুরু করেন চাকরিপ্রার্থীরা। তবে কিছুক্ষণ পর প্রার্থীরা কেন্দ্র থেকে চলে যান। প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় বিমানবন্দর থানায় গত ২৬ অক্টোবর ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করা হয়।
পরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ওয়েবসাইটে এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অনিবার্য কারণে কর্তৃপক্ষের নির্দেশক্রমে ২১ অক্টোবরের অনুষ্ঠিতব্য ১০ পদের পরীক্ষা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।
পদগুলো হলো- জুনিয়র টেইলর কাম আপহোলস্টার, প্রি-প্রেস অ্যাসিস্ট্যান্ট, জুনিয়র এমটি মেকানিক, জুনিয়র এয়ারকন মেকানিক, জুনিয়র ওয়েল্ডার জিএসই, জুনিয়র পেইন্টার জিএসই, জুনিয়র মেকানিক (টায়ার) জিএসই, জুনিয়র মেকানিক জিএই (ক্যাজুয়াল), জুনিয়র ইলেকট্রিশিয়ান জিএসই (ক্যাজুয়াল) ও জুনিয়র অপারেটর জিএসই (ক্যাজুয়াল)।
একাত্তর/এসি
