রাশিয়ার ভাড়াটে গোষ্ঠী ওয়াগনার নাইজারের অস্থিতিশীলতার ‘সুযোগ নিচ্ছে’ বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন। প্রায় দুই সপ্তাহ আগে প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বাজুমকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর থেকে দেশটি সামরিক জান্তার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
মঙ্গলবার বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, অভ্যুত্থান নেতারা ওয়াগনারের কাছ থেকে সাহায্য চেয়েছেন বলে কানাঘুষা শোনা যাচ্ছে, যারা প্রতিবেশী মালিতে উপস্থিত রয়েছে বলে জানা গেছে।
ব্লিঙ্কেন বলেছেন, তিনি মনে করেন না রাশিয়া বা ওয়াগনার নাইজারের অভ্যুত্থানে প্ররোচনা দিয়েছে। তবে সাহেল অঞ্চলের কিছু অংশে এই গোষ্ঠীটি ‘নিজেদেরকে প্রকাশ করা’ নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চিন্তিত বলে তিনি বিবিসির ফোকাস অন আফ্রিকা প্রোগ্রামে বলেছেন।
তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি যা ঘটেছে, এবং নাইজারে যা ঘটছে তা রাশিয়া বা ওয়াগনার দ্বারা প্ররোচিত হয়নি, তবে...তারা এটির সুবিধা নেয়ার চেষ্টা করেছিল। এই ওয়াগনার গোষ্ঠী যেখানেই গেছে, সেখানেই মৃত্যু, ধ্বংস এবং শোষণ তাদেরকে অনুসরণ করেছে’।
তিনি আরও বলেন, অন্যান্য দেশে যা ঘটেছে এখানে তার পুনরাবৃত্তি ছিল, যেখানে তারা খারাপ জিনিস ছাড়া কিছুই নিয়ে আসেনি।
সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক এবং মালিসহ কয়েকটি দেশে ওয়াগনারের হাজার হাজার যোদ্ধা রয়েছে বলে মনে করা হয়, যেখানে তাদের ব্যবসায়িক স্বার্থ রয়েছে। তবে রাশিয়ার কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ককেও তারা শক্তিশালী করে। গ্রুপটির যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে আফ্রিকার কয়েকটি দেশে ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে।
তা সত্ত্বেও, সামরিক হস্তক্ষেপের আশঙ্কায় নাইজারের সেনাবাহিনী ওয়াগনারের কাছে সহায়তা কামনা করেছে বলে জল্পনা রয়েছে।
পশ্চিম আফ্রিকার ১৫টি দেশের আঞ্চলিক ব্লক ইকোওয়াস নাইজারের জান্তা নেতাদের পদত্যাগ এবং প্রেসিডেন্ট বাজুমকে ফিরিয়ে আনার জন্য রোববার পর্যন্ত সময় দিয়েছিল।
তবে নাইজারের সেনাবাহিনী এই সময়সীমা উপেক্ষা করেছে এবং ইকোওয়াসের পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য বৃহস্পতিবার একটি মিটিং করার কথা রয়েছে।
সোমবার, মার্কিন উপ-সচিব ভিক্টোরিয়া নুল্যান্ড অভ্যুত্থান নেতাদের সাথে ‘কঠিন এবং খোলামেলা’ আলোচনা করার কথা জানান। তারা ওয়াগনারের সাথে কাজ করার ‘ঝুঁকি’ বুঝতে পেরেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বর্তমানে আটক অবস্থায় থাকা বাজুমও আফ্রিকাতে ওয়াগনারের প্রভাব সম্পর্কে তার উদ্বেগের কথা বলেছেন।
আরও পড়ুন: রুশ শিবিরে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে বাখমুতের ভূতেরা
ওয়াগনার যোদ্ধারা নাইজারে প্রবেশ করেছে কিনা তা বর্তমানে স্পষ্ট নয়। তবে ওয়াগনার-অধিভুক্ত টেলিগ্রাম চ্যানেল গ্রে জোন সোমবার বলেছে, তাদের প্রায় দেড় হাজার যোদ্ধাকে সম্প্রতি আফ্রিকায় পাঠানো হয়েছে।
তবে আফ্রিকা মহাদেশের কোথায় তাদেরকে মোতায়েন করা হয়েছে তা উল্লেখ করা হয়নি।
ওয়াগনার প্রধান ইয়েভগেনি প্রিগোজিন মঙ্গলবার টেলিগ্রামে আপলোড করা একটি অডিওবার্তায় জান্তাকে ‘তাদেরকে ডাক দেয়ার’ আহ্বান জানিয়েছেন।
একাত্তর/এসজে
