দীর্ঘ গৃহযুদ্ধে বিপর্যস্ত সিরিয়ার তীব্র অর্থনৈতিক সঙ্কট কাটিয়ে উঠতে এগিয়ে এসেছে দেশটির যুবসমাজ। স্নাতক পাশ করেও অনেক তরুণ তরুণী চাকরি খোঁজার জন্য সময় অপচয় না করে নিজেরাই হচ্ছেন উদ্যোক্তা। অনেকেই হাতের কাজসহ নানাভাবে যুক্ত হচ্ছেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়।
সিরিয়ান তরুণী নায়া দাইউব পাঁচটি বছর ব্যয় করেছেন ডেন্টালে পড়ালেখা করে। কিন্তু জীবনের এই পর্যায়ে এসে তিনি বুঝতে পারছেন, এই ডিগ্রি তার জীবনকে বেশিদূর এগিয়ে নিতে পারবে না। তাই চাকরি না খুঁজে বিকল্প কর্মসংস্থানের মাধ্যম হিসেবে তিনি বেছে নিয়েছেন মোম তৈরি আর পেইন্টিংয়ের কাজ।
নায়া দাইউব বলেন, চাকরি করে আমি পরিবারের চাহিদা পূরণ করতে পারতাম না। তাই হাতের কাজের ছোট এই ব্যবসা শুরু করি।
২৬ বছর বয়সী নায়া জানান, ডেন্টাল চিকিৎসার জন্য তাকে ক্লিনিক খুলতে হতো বা অন্য চিকিৎসকের সহকারী হিসেবে কাজ করতে হতো। কিন্তু ক্লিনিক দেয়ার অর্থ তার নেই। তাই ক্ষুদ্র ব্যবসাকেই এই সময়ের সবচেয়ে উপযুক্ত পেশা বলে মনে হয়েছে তার।
তিনি বলেন, আমার মনে হয় না মোমবাতি বিক্রি করে আমি ক্লিনিক খোলার টাকা জমাতে পারবো। কিন্তু অন্তত এই অর্থ দিয়ে আমার ব্যক্তিগত খরচ উঠে আসে।
শুধু নায়াই নন, সিরিয়ার এমন অনেক তরুণ তরুণী লেখাপড়া শেষ করে জীবিকা নির্বাহের তাগিদে ঝুঁকছেন ক্ষুদ্র ব্যবসার দিকে। এমন আরেকজন তরুণী ৩০ বছর বয়সী লাইলা খালৌস। ২০১৬ সালে অর্থনীতিতে স্নাতক পাশ করেন তিনি। বর্তমানে তিনি একটি খেলনা তৈরির প্রতিষ্ঠানে চাকরির পাশাপাশি ব্যবহৃত কাপড়ে পেইন্টিং করে অর্থ উপার্জন করছেন।
লাইলা খালৌস বলেন, আমি আঁকাআঁকি করতে খুবই ভালোবাসি। শুরুতে ভেবেছিলাম ভালো লাগে এমন কোন কাজেই যুক্ত হবো। তাই এ কাজ শুরু করি।
আরও পড়ুন: হিজাব আইন নিয়ে গোপন বিতর্কের পক্ষে ইরানের রাজনীতিবিদরা
তিনি জানান, চাকরির পাশাপাশি নিজে হাতে পণ্য তৈরি করে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া কঠিন। তাই পরবর্তীতে ব্যবসাকেই উপার্জনের মূল মাধ্যম করতে চান লাইলা।
২০১১ সালে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ বিরোধী আন্দোলন শুরুর পর থেকে দেশটির অর্থনীতিতে ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসে। দীর্ঘ গৃহযুদ্ধ শেষে এখন অর্থনৈতিকভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন দেশটির বাসিন্দারা।
একাত্তর/এসজে
