মানবতাবিরোধী অপরাধে আমৃত্যু সাজাপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী মারা গেছেন।
সোমবার রাত পৌনে নয়টার দিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
বিএসএমএমইউ এর পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. মো. রেজাউর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, সাঈদীর ‘কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট’ হয়েছিলো।
বুকে ব্যথা নিয়ে গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি সাঈদীকে রোববার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থানান্তর করা হয়।
শনিবার দুপুরে বুকে ব্যথা অনুভব করলে দণ্ডপ্রাপ্ত এই আসামিকে প্রথমে কারা হাসপাতালে নেয়া হয়। পরে তাকে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখান থেকে থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপে ভুগছিলেন সাঈদী।
১৩ বছর আগে রাজধানীর শাহীনবাগের বাসা থেকে গ্রেপ্তারের পর থেকেই কারাগারে ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর এই সাবেক নায়েবে আমির।
কারা সূত্রে জানা গেছে, একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আমৃত্যু কারাদণ্ড পেয়ে দীর্ঘদিন ধরে গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার পার্ট-১-এ বন্দি ছিলেন সাঈদী।
হত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট, নির্যাতন ও ধর্মান্তরে বাধ্য করার মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি সাঈদীর মৃত্যুদণ্ডের রায় দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
ওই রায়ের পর দেশজুড়ে সহিংসতা চালায় জামায়াত ও ইসলামী ছাত্রশিবির। ওই সহিংসতায় প্রথম তিন দিনেই নিহত হন অন্তত ৭০ জন।
এছাড়া বহু গাড়ি-দোকানপাট ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ, হিন্দুদের মন্দির-ঘরবাড়ি ভাংচুর করা হয়।
যুদ্ধাপরাধী সাঈদী আপিল করলে ২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর আপিল বিভাগ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে দেয়া রায়ে তার সাজা কমিয়ে দেয় আমৃত্যু কারাদণ্ড দেয়। ওই রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন হলেও তাতে কোনো পরিবর্তন আসেনি।
২০১০ সালের ২৯ জুন ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার অভিযোগে দেলাওয়ার হোসেন সাঈদীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে ওই বছরের ২ আগস্ট মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
একাত্তর/কেএসএইচ
