অবশেষে স্বপ্ন পূরণ হতে যাচ্ছে ইউক্রেনের। তাদের চাহিদায় সাড়া দিয়ে রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ করতে ইউক্রেনকে এফ-১৬ জঙ্গি বিমান দিতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। পাইলট প্রশিক্ষণ শেষ হলেই নেদারল্যান্ডস ও ডেনমার্ক থেকে বিমানগুলো ইউক্রেনে সরবরাহ করা হবে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন এক চিঠির মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। ওই চিঠিতি পড়েছে রয়টার্সের প্রতিবেদক।
এর আগে গত মে মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ইউক্রেনীয় পাইলটদের এফ-১৬ যুদ্ধবিমান প্রশিক্ষণের কর্মসূচি অনুমোদন করেছিলেন। ডেনমার্ক ছাড়াও রোমানিয়াতে একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের কথা ছিল।

তবে রাশিয়া আগেই থেকেই হুমকি দিয়ে রেখেছে, কোনো দেশ ইউক্রেনকে এফ-১৬ যুদ্ধবিমান সরবরাহ করলে তারা বিরাট ঝুঁকির মধ্যে পড়বে।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার অভিযান শুরুর সময় ইউক্রেনের হাতে ১২০টি মতো যুদ্ধবিমান ছিল। যার সবগুলোই সোভিয়েত যুগের মিগ-২৯ এবং সুখোই-২৫ ও সুখোই-২৭ মডেলের। যুদ্ধের কিছুদিনের মধ্যেই রাশিয়ার আক্রমণে ইউক্রেনের সব বিমান ধ্বংস হয়ে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বেশ কিছুদিন ধরে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি তার বাহিনীকে এফ-১৬ যুদ্ধবিমান সরবরাহের অনুরোধ করে আসছেন। তার ধারণা, এফ-১৬ যুদ্ধবিমান পেলে রাশিয়ার বাহিনীকে শায়েস্তা করতে পারবে ইউক্রেন।
কিন্তু বাস্তবতা কি আসলেই তাই? ১৯৭৬ সাল থেকে তৈরি হয়ে আসা এফ-১৬ জঙ্গি বিমান রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে কতটা কার্যকর হবে সে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

কতটা শক্তিশালী মার্কিন এফ-১৬ যুদ্ধবিমান?
চতুর্থ প্রজন্মের এক ইঞ্জিনের এই বিমানটি বিশ্বের যেকোনো আবহাওয়ায় যুদ্ধ করার জন্য উপযুক্ত। এর পুরো নাম এফ-১৬ ফাইটিং ফ্যালকন। তবে এর বেশ কয়েকটি ভার্সন রয়েছে।
এফ-১৬ যুদ্ধবিমান প্রথমে তৈরি করে মার্কিন কোম্পানি জেনারেল ডায়নামিক্স। পরে এটি কিনে নেয় অস্ত্র নির্মাণের জায়ান্ট কোম্পানি লকহিড মার্টিন। এই বিমানটি মূলত কম মূল্যের এবং ওজনে হালকা করে তৈরি করা হলেও একে বহুমুখী ব্যবহার করা যায়। বোয়িংয়ের তৈরি ব্যয়বহুল ও যুদ্ধের মাঠে অত্যন্ত কার্যকর এফ-১৫ মডেলের জঙ্গি বিমানকে সহায়তা করতেই প্রস্তুত করা হয়েছিল চতুর্থ প্রজন্মের এফ-১৬ বিমান।
আকাশ থেকে আকাশ এবং আকাশ থেকে ভূমিতে হামলার বেশ পারঙ্গম এই এফ-১৬। তবে এর ছিপছিপে দেহের কারণে দ্রুত ম্যানুভারিং ক্ষমতা রয়েছে, যে কারণে আকাশে থেকে আকাশে হামলার ক্ষেত্রে এফ-১৬ কে বেশ সফল হিসেবে দেখা হয়। এছাড়া এফ-১৬ এর নাইট ভিশন যথেষ্ট শক্তিশালী।

বিমানটিতে কামান, ক্ষেপণাস্ত্র ও বোমা সবরকম অস্ত্রই বহন করতে পারে। একটি ২০ এমএমএম৬১ ভালকান কামান থেকে ১৬- প্রতি মিনিটে ৬ হাজার রাউন্ড গুলি ছুঁতে পারে।
প্রতি ঘণ্টায় ২৪১৪ কিলোমিটার গতি উড়তে পারে এফ-১৬। অস্ত্র বহন ক্ষমতা ২১ হাজার ২৮২ কেজি।
১৯৭৬ সাল থেকে সাড়ে চার হারের বেশি এফ-১৬ উৎপাদন করা হয়েছে। তবে মার্কিন বিমানবাহিনী এখন আর এই জঙ্গি বিমান কেনে না। কিছুদিন আগে লকহিড মার্টিন এফ-১৬ এর উৎপাদন বন্ধ করে দেয়ার ঘোষণা দেয়ার পর আবার সিদ্ধান্ত পাল্টে উৎপাদন চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেছেন।

রাশিয়ার হাতে রয়েছে ৪ দশমিক ৫ প্রজন্মের সুখোই-৩৫ এবং পঞ্চম প্রজন্মের সুখোই-৫৭ যুদ্ধবিমান। রয়েছে এস-৪০০ ট্রায়াম্পের মতো অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।
এসব অস্ত্রের সামনে ৫০ বছর আগের তৈরি এফ-১৬ আসলেই কি কোনো ভূমিকা রাখবে?
এর আগে রাশিয়ার পক্ষ থেকে এফ-১৬ দেয়ার সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনার করার পাশাপাশি বলা হয়েছিল, রুশদের অত্যাধুনিক অস্ত্রের সামনে পুরানো আমলের অস্ত্র টিকতে পারবে না।
একাত্তর/আরবি
