সরকারের বর্তমান মেয়াদে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য নিয়ন্ত্রণে আইন সংশোধন না হলে সেটি দীর্ঘসূত্রিতায় পড়বে বলে শঙ্কা জানালেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, পাশ হওয়া আইনটির কিছু ত্রুটি বিচ্যুতির কারণে তামাক নিয়ন্ত্রণে এটি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না। তাই ধূমপানের জন্য নির্ধারিত স্থান বাতিলসহ আইনের বেশ কিছু সংস্কারের দাবি জানান তারা।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন টোব্যাকো কন্ট্রোল বা এফসিটিসির সাথে মিল রেখে দেশের ২০১৩ সালে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন করা হয়। কিন্তু ধূমপানের জন্য নির্ধারিত স্থান বাতিল, বিক্রয় স্থলে তামাক পণ্যের প্রদর্শনী বন্ধ করা, তামাক কোম্পানির সিএসআর কার্যক্রম বন্ধ করা, সচিত্র সতর্কবার্তার আকার বাড়ানো এবং সিঙ্গেল স্টিক সিগারেট বা বিড়ি বিক্রি নিষিদ্ধ করার মতো বিষয়গুলো আইনটিতে যুক্ত করার দাবি জানান সংশ্লিষ্টরা।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় আইনটি সংস্কারের সংস্কারের উদ্যোগ নিলেও তা থমকে আছে দীর্ঘদিন।
ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের গবেষক ড. সোহেল রেজা চৌধুরী বলেন, আইনের প্রয়োগ শক্তভাবে না করা গেলে আমরা তামাক ব্যবহার থেকে বেরিয়ে আসতে পারবো না। এটা স্বাস্থ্যের পাশাপাশি আমাদের অর্থেরও ক্ষতি করে। তামাক থেকে যা সরকারের আয় হয়, তার চেয়ে অনেক বেশি ব্যয় করতে হয় তামাকজনিত রোগের পেছনে।
এমপি সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, আমরা যদি দুই বা আড়াই মাসের মধ্যে এটা ধরতে না পারি, নতুন সরকারের সময় আবার এটা নতুন করে শুরু করতে হবে।
স্বাস্থ্য সেবা সচিব জানান, আইনটির সংশোধনীগুলো প্রস্তুত করার ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় প্রধান ভূমিকা পালন করেছে। এটা চূড়ান্ত ধাপে রয়েছে। সরকার চাইলে এই মেয়াদেই আইনটি পাশ হতে পারে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব ড. মু. আনোয়ার হোসেন হাওলাদার বলেন, এটা আইন মন্ত্রণালয়ে ভ্যাটিংয়ের জন্য যাবে। এরপর রাষ্ট্রপতির অনুমোদন নিয়ে পার্লামেন্টে যাবে। শেষ পর্যায়ে চলে আসছে।
এর আগে ১৫৫ জন সংসদ সদস্য ও চিকিৎসকসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনটি সংশোধনের পক্ষে সমর্থন জানান।
‘৭৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে আগ্রহী এক্সন মবিলসহ কিছু কোম্পানি’
জিয়ার সময় গুম-খুনের বিচার দাবি ভুক্তভোগী স্বজনদের