দক্ষিণ কোরিয়ায় সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে পারমাণবিক হামলার অনুকরণ করতে দুটি স্বল্প-পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়ে মহড়া চালানোর কথা জানিয়েছে উত্তর কোরিয়া।
বৃহস্পতিবার দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, এই অঞ্চলে মার্কিন কৌশলগত বোমারু বিমান মোতায়েনের বিরুদ্ধে সতর্কতা হিসেবে পরীক্ষাগুলো চালানো হয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার গণমাধ্যম জানিয়েছে, মধ্যরাতের দিকে পূর্ব উপকূল থেকে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো নিক্ষেপ করা হয়।
ওয়াশিংটন এবং সিউলের বার্ষিক সামরিক মহড়ার মধ্যে এই পরীক্ষা চালালো উত্তর কোরিয়া। দীর্ঘদিন ধরে এই যৌথ মহড়াকে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের মহড়া বলে নিন্দা করে আসছে পিয়ংইয়ং।
উত্তর কোরিয়ার সেনাবাহিনী বলেছে, বুধবার গভীর রাতে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধান কমান্ড সেন্টার এবং অপারেশনাল এয়ারফিল্ডে একটি কৌশলগত পারমাণবিক স্ট্রাইক ড্রিলের অনুকরণে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো নিক্ষেপ করা হয়েছে।
‘আমাদের বারবার সতর্কতা সত্ত্বেও যেসব শত্রু কৌশলগত পারমাণবিক সম্পদ মোতায়েনের মতো সামরিক হুমকির সাথে আমাদের চ্যালেঞ্জ করে তাদের কাছে একটি স্পষ্ট বার্তা পাঠানোর লক্ষ্যে এই মহড়ার লক্ষ্য’, সেনাবাহিনী বলেছে।
দক্ষিণে আক্রমণ করার উদ্দেশ্য প্রকাশ করার জন্য পিয়ংইয়ংকে নিন্দা জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার একীকরণ মন্ত্রণালয়।
‘উত্তর যত বেশি সামরিক হুমকি এবং উসকানিতে দেবে, ততই এটি দক্ষিণ কোরিয়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং জাপানের অপ্রতিরোধ্য প্রতিক্রিয়ার মুখোমুখি হবে’, মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেছেন।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদাও উৎক্ষেপণের সমালোচনা করে বলেছেন, এগুলো শুধু জাপানের শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্যই হুমকি নয়, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কেও হুমকির মুখে ফেলেছে।
উত্তর কোরিয়া এ বছর রেকর্ড সংখ্যক অস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়া এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ১১ দিনের উলচি ফ্রিডম শিল্ড সামরিক মহড়া শেষ হওয়ার একদিন আগে সর্বশেষ পরীক্ষাটি চালানো হয়।
উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন মঙ্গলবার তার শীর্ষ কমান্ডারদের দক্ষিণের সাথে সর্বাত্মক যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত করতে একটি মহড়া পর্যবেক্ষণ করেছেন বলে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ড্রিলটি আকস্মিক আক্রমণ প্রতিহত করার অনুকরণ করে, তারপর ‘দক্ষিণে অর্ধেক অঞ্চল’ দখল করার জন্য একটি পাল্টা আক্রমণ শুরু করে।
দক্ষিণ আফ্রিকায় আবাসিক ভবনে আগুনে ৫২ জন নিহত