ডেঙ্গু জ্বরের ভয়ঙ্কর রূপ দেখছে চট্টগ্রাম। দিনে শতাধিক রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ইতিমধ্যে মারা গেছেন ৬৩ জন। ভয়ঙ্কর প্রাদুর্ভাবের মধ্যেও নির্বিকার চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন। ডেঙ্গু জ্বরের বাহক এডিস মশা নিধনে নেই কার্যকর কোন উদ্যোগ।চলতি মাসে রোগীর সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
পেশায় সিএনজি অটোরিকশা চালক রুহুল আমিন থাকেন চট্টগ্রাম মহানগরীর আগ্রাবাদে। ডেঙ্গুজ্বর নিয়ে গত ৭ সেপ্টেম্বর ভর্তি হয়েছেন চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। জানালেন, দীর্ঘদিন তাদের এলাকায় মশার ওষুধ ছিটায়নি সিটি কর্পোরেশন।
রুহুল আমিনের মত হাসপাতালে ভর্তি বেশিরভাগ রোগীরই বক্তব্য একই রকম। মশা নিধনে সিটি কর্তৃপক্ষের উদ্যোগ না থাকায় মশার উপদ্রব বাড়ার কথা জানান তারা।
সিটি কর্পোরেশনের মাঠ পর্যায়ের কর্মীরা ওষুধের সীমাবদ্ধতার কথা বললেও চসিকের কোতোয়ালী এলাকার সুপারিন্টেনডেন্ট রিপন বললেন, ওষুধের কোনো কমতি নেই।
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ম্যালেরিয়া ও মশা নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা শরফুল ইসলাম জানান, প্রায় সকল এলাকাতেই নিয়মিতই মশার ওষুধ ছিটানো হচ্ছে।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইমার্জেন্সি ইনচার্জ ও ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. আবুল ফয়সাল নুরউদ্দীন চৌধুরী জানান, নগরীতে মশা নিয়ন্ত্রণ না করলে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা কমবে না।
চট্টগ্রাম জেলার সিভিল সার্জন ডা. ইলিয়াস চৌধুরী জানান, বর্তমানে ডেঙ্গুর ভ্যারিয়েন্ট অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তাই রোগ প্রতিরোধ অনেক জরুরী।
এ পর্যন্ত চট্টগ্রামে ডেঙ্গুতে মারা গেছেন ৬৩ জন। আর আক্রান্ত হয়েছেন সাত হাজার ৪৫১ জন।
